ঢুকছে না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা! ফর্ম যাচাইয়ে গাফিলতি? শোকজ ৩২ কর্মী

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna Yojana) নিয়ে এইমুহুর্তে জেলায় জেলায় চলছে ব্যাপক শোরগোল। কোথাও ফর্ম অ্যাপ্রুভড হচ্ছে তো কোথাও আবার বাতিল হয়ে যাচ্ছে। অভিযোগ সমস্ত শর্ত মেনেও বাতিল হচ্ছে ফর্ম, মিলছে না টাকা। সেই কারণে পঞ্চায়েত-পুরসভা গুলির বিরুদ্ধে দিকে দিকে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন মহিলারা। চাপানউতোর চলছে প্রশাসনিক মহলে। এমতাবস্থায় মহিলাদের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না ঢোকায়, পৌরসভার ৩২ জন কর্মীকে শোকজ কলেন মহকুমা শাসক।

শোকজ করা হল ৩২ জন কর্মীকে

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেছিলেন যে ১ জুলাই থেকেই সকল মহিলার অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ৩ হাজার টাকা। কিন্তু সেই টাকা সময় মতো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা না পড়ায় গত বৃহস্পতিবার উত্তাল হয়ে উঠেছিল ধূপগুড়ি (Dhupguri) পৌরসভা চত্বর। স্থানীয় মহিলারা ওইদিন পৌরসভায় এসে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান, এমনকি বাদ যাননি এলাকার বিধায়ক। শেষে পুলিশের উপস্থিতিতে নিয়ন্ত্রণে আসে পরিস্থিতি। কিন্তু এই ঘটনার জেরে গতকাল, ধূপগুড়ি পৌরসভার ৩২ জন কর্মীকে শোকজ করলেন পৌর প্রশাসক।

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে ক্ষুব্ধ মহিলারা

পৌরসভা সূত্রে খবর, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের কাজে যে সকল কর্মী ফর্ম যুক্ত ছিলেন বিশেষত যাচাই-এর দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধেই কাজে গাফিলতি এবং নির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন না করার অভিযোগ আনা হয়েছে। গতকালই স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল শোকজ কর্মীদের আজ, শনিবার সকাল ১১টার মধ্যে সমস্ত নথিপত্রসহ এসডিও-র সামনে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিল। এই প্রসঙ্গে স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিষেবা পেতে দেরি হওয়ায় সাধারণ মানুষ প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেন। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু এই শোকজ নোটিশকে ঘিরে পাল্টা অসন্তোষ প্রকাশ করেছে পৌর কর্মচারী সংগঠন।

আরও পড়ুন: ‘ফিরহাদ সবচেয়ে বড় নেমকহারাম’ বিস্ফোরক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

শোকজ লেটার পাওয়া কর্মীদের দাবি, তাঁরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নিজেদের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু কোনো আর্জি না শুনেই শোকজ করা হয়েছে। তাঁরা আপাতত লিখিতভাবে তাঁদের বক্তব্য মহকুমা শাসকের কাছে জমা দিতে চলেছেন বলে জানাচ্ছেন। অন্যদিকে অল বেঙ্গল মিউনিসিপ্যালিটি ওয়ার্কম্যানস ফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক রাজেন্দ্র প্রসাদ ঘোষ বলেন, ‘‘সরকারি নির্দেশ মেনে আমাদের কর্মীরা দিনরাত এক করে কাজ করেছেন। নতুন প্রকল্পের চাপ সামলাতে গিয়ে তাঁরা নিজেদের উজাড় করে দিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের উচিত ছিল কর্মীদের সাথে কথা বলে প্রকৃত সমস্যাটি বোঝা।”

Leave a Comment