প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: খবরের শিরোনামে এবার মেট্রোপলিটনের তৃণমূলের কার্যালয়! অফিস দখলদারি নিয়ে ফের ঝামেলা বাঁধল ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের সঙ্গে মমতাপন্থী তৃণমূলের। গতকাল, শুক্রবার দলীয় কার্যালয় ‘দখল’ করেন ঋতব্রতেরা (Ritabrata Banerjee)। ভবনের বাইরের গেটে তালা ঝুলিয়ে সঙ্গে করে চাবি নিয়ে চলে যান তাঁরা। এরপরই খবর পেয়েই ওই কার্যালয়ে পৌঁছে যান কুণাল সহ কালীঘাট তৃণমূলের সদস্যরা। এমতাবস্থায় ফিরহাদ হাকিমকে (Firhad Hakim) কটাক্ষ করলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)।
কার্যালয় দখলদারি নিয়ে বাঁধল ঝামেলা
প্রতীক, নাম, দলের তহবিল এই নিয়ে যখন কাড়াকাড়ি চলছে সেই সময় তৃণমূলের কার্যালয় ‘দখল’ নিয়ে চাপানউতর শুরু হয়ে গেল। ঋতব্রত শিবিরের আখরুজ্জামান দাবি করে জানান যে, ‘‘আমরাই তৃণমূল। এটা আমাদের কার্যালয়। এই কার্যালয়ের সঙ্গে তৃণমূলের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। আমরা মালিকের সঙ্গে কথা বলেছেন। ভাড়া-সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।” পাল্টা হুঁশিয়ারি দেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “দখলদারির সংস্কৃতি চলছে। সরকার এবং পুলিশের প্রত্যক্ষ মদতে একজন বহিষ্কৃত বিজেপির বি টিম হয়ে নেমেছে।’’ দখলদারির বিরোধিতা করেছেন শ্রীরামপুরের সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
কী বলছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়?
ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের বেমালুম পার্টি অফিস দখল করাকে কেন্দ্র করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে অভিযোগের কাঠগড়ায় তুললেন কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানান, “ মার্কসবাদী কমিউনিস্ট বুদ্ধি মাথায় খালি ঘোরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের। জনতার আদালতে দেখিয়ে দেব আমরা। ফৌজদারি দখলদারি বের করে দেব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে এল কেন? অরূপ রায় চেয়ারম্যান। সব চোর, ডাকাত, গুন্ডা। সবচেয়ে বেশি নেমকহারামি করেছে ববি হাকিম। খেলা ওঁরা শুরু করেছে শেষ আমরা দেখিয়ে দেব। পাবলিক সব বুঝিতে দেবে।”
TMC MP Kalyan Banerjee launches a blistering attack on Firhad Hakim. Terms him a ‘biggest traitor’. He further challenges TMC rebel faction chairperson Arup Ray and general secretary Ritabrata Banerjee to visit their respective constituencies. pic.twitter.com/URySD6SnmP
— Pooja Mehta (@pooja_news) July 3, 2026
আরও পড়ুন: ১ মাসের মধ্যে অভিযোগের নিষ্পত্তি! চিহ্নিত হবে অযোগ্যরা, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে আসছে নয়া সুবিধা
এর আগেও তারাতলা কাণ্ডে বিপর্যয়ের জন্য ফিরহাদ হাকিমকে কটাক্ষ করেছিলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ফিরহাদের OSD কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা নিয়ে তিনি বলেছিলেন, “শুধু কালি নিয়ে এলে হবে না, দোয়াতটা কই? কালি তো দোয়াতে রাখতে হয়। তা দোয়াতটা নিয়ে আসুন, আর পেনটাকেও ধরুন। পেনটাকেও নিয়ে আসুন। পেন দিয়ে, কালি দিয়ে না লিখলে আপনি নতুন ইতিহাস তৈরি করবেন কী করে? শুধু কালিকে অ্যারেস্ট করে কী হবে?” ঘুরিয়ে ফিরিয়ে তিনি ফিরহাদ হাকিমকেই গ্রেফতারির দাবি তুলেছিলেন।