বাসমতি চালের রপ্তানিতে ভারতের কাছে পরাস্ত পাকিস্তান, ক্ষতি ৩.১ বিলিয়ন ডলার

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ভারতের বাসমতি চালের (Indian Basmati Rice) কাছে হার মেনেছে পাকিস্তান! এ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের (Pakistan) জাতীয় পরিষদের বাণিজ্য কমিটির এক বৈঠকে বাণিজ্য সচিব জাওয়াদ পাল জানিয়েছেন, ভারতের সস্তা বাসমতি চাল ও আগ্রাসী রপ্তানি নীতির কারণে পাকিস্তানের চাল শিল্প তীব্র পতনের সম্মুখীন হচ্ছে। শুধু তাই নয়, আঞ্চলিক বিরোধীতার কারণেও পাকিস্তানের 3.1 বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। পাকিস্তানের এই ক্ষয়ক্ষতির নেপথ্যে রয়েছে আফগানিস্তানের এক কঠিন সিদ্ধান্তও।

ব্যাপক ক্ষতির মুখে পাকিস্তান!

গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের বাণিজ্য বিষয়ক স্থায়ী কমিটিকে জানানো হয়েছে, আফগানিস্তান সীমান্ত বন্ধ করে রাখার কারণে পাকিস্তানের রপ্তানিতে 110 কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে পাকিস্তানের বৈদেশিক চালান প্রায় 200 কোটি ডলার কমে গিয়েছে।

জাভেদ হানিফ খানের নেতৃত্বে গঠিত পাকিস্তানের বিশেষ কমিটি এবার বৈদেশিক বাণিজ্যের উপর আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব ঠিক কতটা তা পর্যালোচনা করছে। পাকিস্তানের বাণিজ্য বিষয়ক সচিব জাওয়াদ পাল জানিয়েছেন, চলতি আর্থিক বছরের প্রথম নয় মাসে ট্রানজিট বাণিজ্য এবং দেশটির রপ্তানি 1.2 বিলিয়ন ডলার কমেছে। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের সস্তা বাসমতি চালের ক্রমবর্ধমান চাহিদার কারণে জনপ্রিয়তা কমেছে পাকিস্তানের চালের। ফলে আগের মতো আর অর্ডারও পাচ্ছেন না পাক ব্যবসায়ীরা।

অবশ্যই পড়ুন: নানা অ্যাকাউন্টে ৫০ লাখের লেনদেন, অন্যের সম্পত্তি আটকে রাখা! দেবরাজ কাণ্ডে নতুন তথ্য

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ট্রিবিউন জানিয়েছে, পাকিস্তানের চাল অত্যন্ত উন্নত মানের হলেও ভারতের চাল সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে বলেই ওই চালের বিক্রি বেড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। যার ফলে দিন দিন ক্ষতি হচ্ছে পাকিস্তানের! এদিকে পাকিস্তানের মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কমিটিকে জানান, পাকিস্তানের চালের দাম যেখানে প্রতি টনে 1300 ডলার, সেখানে ভারতের প্রতি টন চাল বিক্রি হচ্ছে 1100 ডলারে। সব মিলিয়ে, পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের দাবি, ভারতের বাসমতি চালের ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে নাকি পাকিস্তানের চালের বাজার একেবারে মুখ থুবড়ে পড়েছে।

Leave a Comment