বীরভূমের ‘বেতাজ বাদশা’ টুলু মণ্ডলের দুর্গে পুলিশের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক! বিপাকে বালি ব্যবসায়ী

অনন্যা সরকার, কলকাতা: রাজ্যে সরকার বদলের পর অবৈধ বালি-পাথর সাম্রাজ্যের ভিত টলে উঠেছে। শনিবার বীরভূমের বিতর্কিত ব্যবসায়ী পাথর বালি সিন্ডিকেটের (Sand Syndicate) ‘বেতাজ বাদশা’ নিজামউদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডলের (Tulu Mondal) বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করার আবেদন করেছে মহম্মদ বাজার ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। অভিযোগ নিজস্ব পার্কিং জোনে অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ বালি মজুত করে রেখেছিলেন টুলু মন্ডল। 

টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের 

রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে টুলু মণ্ডলের পার্কিং জোনে অভিযান চালিয়ে রীতিমতো হতবাক হয়ে যান মহম্মদ বাজার ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের আধিকারিকরা। দেখা যায় বিশাল জায়গা জুড়ে রয়েছে পাহাড়প্রমাণ বালির স্তুপ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩,১২,৯০৬ সিএফটি বালি ওই স্থান থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ বালি বহুদিন ধরে সেখানে মজুত হয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারী অফিসাররা। অভিযানের পর মহম্মদ বাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। বীরভূমের বালি ও পাথর ব্যবসায়ী মহলে আবারও সৃষ্টি হয়েছে চাঞ্চল্য। 

জানিয়ে রাখি, নিজামউদ্দিন মণ্ডল ওরফে টুলু মণ্ডল একসময় মহম্মদ বাজার এলাকার বালি ও পাথর ব্যবসায়ের অঘোষিত বাদশা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। নিজস্ব পাথর ব্যবসা তো ছিলই, পাশাপাশি বীরভূমের ছয়টি পাথর শিল্পাঞ্চলের সরকারি রাজস্ব আদায়ের দায়িত্বও ছিল তার হাতেই। আর এই ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়েই টুলু মণ্ডল সরকারি রাজস্বে ব্যাপক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা উপার্জন করতেন বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করছেন যে, তৎকালীন  ক্ষমতাসীন দল ও প্রশাসনের মদতে নির্বিঘ্নে এই অঞ্চলে ব্যবসা চালাতেন টুলু মন্ডল। 

মহম্মদ বাজার ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক (BLRO) আনন্দ বিশ্বাস জানিয়েছেন, সরকারি অনুমতিতেই বালি তুলতেন টুলু মন্ডল এবং তা নির্দিষ্ট সরকারি প্রকল্পে ব্যবহার করার কথা ছিল। কিন্তু তা না করে রাতের অন্ধকারে সেই বালি তিনি নিজস্ব পার্কিং জোনে মজুত করে রাখতেন বলে অভিযোগ এসেছে। টুলু মন্ডলের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে ইতিমধ্যেই এফআইআর করার আবেদন জানানো হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান বিএলআরও। 

যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ী টুলু মন্ডল। তিনি বলেন তিনি একজন সরকারি ঠিকাদার এবং এই মুহূর্তে তার অধীনে ৫০ থেকে ৬০টি রাস্তার কাজ হচ্ছে, যার পিছনে খরচ প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। এই বিশাল  নির্মাণকার্যের জন্য পার্কিং জোনে মাটি, বালি ও  কাঁকড় মজুদ করে রাখা হয়েছে। তার দাবি, সমস্তটাই বালি নয়, রাস্তা নির্মাণের জন্য রাখা সামগ্রী। প্রশাসন এসে বিনা কারণেই তার পার্কিং জোনে তালা লাগিয়ে চলে গেছে, ফলে তার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানান টুলু মন্ডল।

আরও পড়ুনঃ কারেন্ট নেই তাই সদ্যবিবাহিতা স্ত্রীকে ভালোবাসতে পারছেন না! বিদ্যুৎ মন্ত্রীকে আর্জি যুবকের

ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের এই অভিযান নিয়ে পুলিশি তদন্তে কি অগ্রগতি হয় এখন সেটাই দেখার। কিভাবে অত পরিমাণ বালি পার্কিং জোনে গেল, এর জন্য কোনো সরকারি শর্ত ভঙ্গ করা হয়েছে কিনা, কোন কোন ব্যক্তি এই কাজে জড়িত আছেন – এই সমস্ত বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment