সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: শিক্ষকদের যোগ্যতা নিয়ে অনেক সময় প্রশ্ন ওঠে। তবে এবার রাজ্যের সরকারি স্কুলে ভুয়ো শিক্ষাগত যোগ্যতার নথি জমা দিয়ে চাকরি (Teacher Recruitment) পাওয়ার অভিযোগে বিরাট পদক্ষেপ নিল শিক্ষা দফতর। প্রাথমিক তদন্ত করে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জাল ডিগ্রি এবং নকল শংসাপত্রের ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে ৩০৩৫ জন সরকারি শিক্ষকের চাকরি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এমনকি তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত বেতন ও ভাতা সুদসহ ফেরতের পথেই হাঁটছে প্রশাসন।
জালিয়াতির পর্দা ফাঁস রাজ্যে
আসলে এই ঘটনা ঘটেছে বিজেপি শাসিত রাজ্য বিহারে। তদন্তকারী সংস্থা শিক্ষা দফতরের হাতে অভিযুক্ত শিক্ষকদের একটি বিস্তারিত তালিকা তুলে দেয়। আর সেই তালিকার ভিত্তিতেই একের পর এক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এই মামলায় ইতিমধ্যেই ১৮০০টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে খবর, যেখানে মোট ৩০৩৫ জন শিক্ষক অভিযুক্ত হিসেবে উঠে এসেছেন।
তদন্ত করে আরও জানা গিয়েছে, এই অভিযোগের মূল কেন্দ্রবিন্দু ২০০৬ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে হওয়া শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। তদন্তকারীদের দাবি, চাকরি পাওয়ার জন্য যে সমস্ত শিক্ষাগত শংসাপত্র জমা দেওয়া হয়েছিল তার মধ্যে বহু ডিগ্রি এরকম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যেগুলির আদৌ বাস্তবে কোনও অস্তিত্ব ছিল না। আবার অনেক ক্ষেত্রে কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় বৈধ হলেও জমা দেওয়া মার্কশিট বা ডিগ্রি সম্পূর্ণ ভুয়ো ছিল।
আরও পড়ুন: তারাপীঠ মন্দিরে চালু হচ্ছে ডিজিটাল লেনদেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাঙ্কে ঢুকবে দানের রাশি
শিক্ষা দফতরে আরও জানিয়েছে, শুধুমাত্র চাকরি বাতিল করলেই বিষয়টি মিটবে না, বরং অভিযুক্তদের কাছ থেকে চাকরির সময়কালে পাওয়া বেতন আর অন্যান্য আর্থিক সুবিধা সুদসহ ফেরত নিতে হবে। প্রশাসনের মতে, সরকারি অর্থের অপব্যবহার রুখতে এই পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়। এমনকি কঠোর পদক্ষেপের খবর ছড়িয়ে পড়তেই অভিযুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে উদ্বেগ। জটিলতা এবং কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থার আশঙ্কা এড়াতে অনেক শিক্ষক ইতিমধ্যেই স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দিতে শুরু করেছেন। কিন্তু শিক্ষা দফতর স্পষ্ট জানিয়েছে, ইস্তফা দিলেই দায়মুক্তি মিলবে না। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।