প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: আরজি করের পর এবার বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের ঘটনাকে (Baruipur Incident) ঘিরে উত্তাল গোটা বাংলা। রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠছে পরিস্থিতি। এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে শুধু ধর্ষণ-খুনের সঙ্গে জড়িতদের সাজা নয়, যারা গণপিটুনি, পুলিশকে মারধর এবং রেললাইন অবরোধ ও অশান্তিতে জড়িত তাদের কাউকেই ছাড়া হবে না। আর এই ঘোষণার পরেই দাঙ্গায় প্ররোচনার অভিযোগে FIR দায়ের হয় সিপিএম নেতা লাহেক আলির বিরুদ্ধে। এবার এই অভিযোগ খারিজ করতে বাধ্য হয়ে আদালতের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হলেন তিনি।
সুজন-সহ ৪ সিপিএম নেতার বিরুদ্ধে FIR
বারুইপুর ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় উত্তেজিত জনতা এক সন্দেহভাজনকে পিটিয়ে খুন করেছিল, তাই নিয়ে সেখানকার পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুরে এসে জানিয়েছিলেন, গণপিটুনিতে নিহত ওই যুবক নাকি নির্দোষ। আর এই উস্কানিমূলক অশান্তির পিছনে মৌলবাদী ও দেশবিরোধী শক্তি রয়েছে। তাই কাউকে ছাড়া হবে না। ইতিমধ্যেই জানা গিয়েছে পুলিশ কল রেকর্ডিং সংগ্রহ করেছে। এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারির পর রাতারাতি সুজন-সহ ৪ সিপিএম নেতার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে বিজেপি। ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
আদালতের দ্বারস্থ হলেন সিপিএম নেতা
সূত্রের খবর, গত ৭ জুলাই, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বারুইপুর থানায় সুজন চক্রবর্তী, লাহেক আলি, মোনালিসা সিনহা এবং সইফুদ্দিন মণ্ডলের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্ররোচনা, মিথ্যে খবর প্রচারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। আর তাই এবার গ্রেপ্তারির আশঙ্কায় হাই কোর্টে ছুটলেন সিপিএম নেতা লাহেক আলি। জানা গিয়েছে, বারুইপুর কাণ্ডে দাঙ্গায় প্ররোচনার অভিযোগ এফআইআর খারিজ করার আর্জিতে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাস মামলা দায়ের অনুমতি দিয়েছে হাই কোর্টে।
আরও পড়ুন: শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকে নিয়ে বামেদের প্রোপাগান্ডা ভাঙছেন দীপাঞ্জন, মহতী উদ্যোগ বিধায়কের
অন্যদিকে গতকাল, বৃহস্পতিবার অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র, ইউটিউবার অনুভব মাইতির বিরুদ্ধে FIR দায়ের করেছিলেন বিজেপি নেতা সুশোভন রায়। তিনি জানিয়েছেন, “ঘটনার দিন সোশাল মিডিয়ায় এঁরা উসকানিমূলক বক্তব্য রাখার কারণে সাধারণ মানুষের মনে হয়েছে যে একটি বিশেষ সম্প্রদায়, আরএসএস কিংবা বিজেপি এই কাজটা করেছে। এই উসকানি এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, বাচ্চাদের মাথাতেও ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে- হিন্দুরা আমাদের শত্রু, হিন্দুরা আমাদের ক্ষতি করছে। তাই এর শাস্তি পাওয়া উচিত।”