শিয়ালদা ডিভিশনে একাধিক সাবওয়ের অনুমোদন পূর্ব রেলের, কোথায় কোথায়? জানুন

অনন্যা সরকার, কলকাতা: লোকালয়ের ওপর দিয়ে যাওয়া রেললাইনগুলি পারাপার করা নিয়ে মাঝেমধ্যেই নানা বিপত্তির সৃষ্টি হয়। একদিকে দিনের বিভিন্ন সময়ে ট্রেন চলাচল করছে লাইনের ওপর দিয়ে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষদেরও নানা প্রয়োজনে রেললাইন পারাপার করার দরকার পড়ছে। দীর্ঘক্ষণ লেভেল ক্রসিংয়ে (Level Crossing) দাঁড়াতে চান না অনেকেই। তাই কিছু মানুষ নিজেদের ইচ্ছামত রেললাইন পারাপার করেন বলে অভিযোগ রেল কর্তৃপক্ষের (Indian Railways)। এর ফলে অনেক সময় দুর্ঘটনা কবলেও পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। এই সমস্যা এড়াতে এবার রেলের তরফে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, আর রেললাইনের ওপর দিয়ে নয়, পারাপারের জন্য তৈরি হচ্ছে ভূগর্ভস্থ পথ বা সাবওয়ে (Subway)। 

রেললাইন পারাপারের দীর্ঘদিনের সমস্যা এড়াতে রেলের নয়া উদ্যোগ

অনেক আগেই রেললাইন পারাপারের সমস্যা এড়াতে শিয়ালদহ ডিভিশনের (Sealdah Division) জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ইস্পাতের রেলিং পুঁতে পারাপার আটকানোর ব্যবস্থা করেছে রেল। এর থেকে কিছু ক্ষেত্রে সুফল মিললেও, দরকারি কারণে রাস্তা পারাপার করার প্রয়োজন পড়লেও, রেললাইন পেরোতে না পারায় সমস্যায় পড়তে হয়েছে স্থানীয়দের। এই সমস্যা মেটাতে তাই শিয়ালদহ ডিভিশন এক সঙ্গে সাতটি জায়গায় ভূগর্ভস্থপথ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সোনারপুর-বারুইপুর, লক্ষ্মীকান্তপুর-নামখানা, রানাঘাট-গেদে, বনগাঁ-পেট্রাপোল, কাকদ্বীপ-উকিলের হাট এবং কৃষ্ণনগর-শান্তিপুর শাখায় এই সাতটি সীমিত উচ্চতার সাবওয়ে (Subway) তৈরি করার জন্য অনুমোদন দিয়েছে পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ। 

ট্রেন চলাচল আরও মসৃণ করতে লেভেল ক্রসিংয়ের সংখ্যা কমানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ। তার জন্য ব্যস্ততম লেভেল ক্রসিংগুলিতে তৈরি হচ্ছে ওভারব্রিজ। এর পাশাপাশি শহরতলী ও ছোট জনপদের মানুষদের প্রয়োজনের কথা মাথা রেখে বিভিন্ন শাখায় এবার ভূগর্ভস্থ পথ তৈরি করা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে রানাঘাট-গেদে শাখায় আড়ংঘাটা এবং বাহিরগাছির মধ্যে একটি স্থানে বাজার, স্কুল, ব্যাঙ্ক থাকায় ভূগর্ভস্থ পথ তৈরি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই শাখারই বগুলা-বানপুরের মধ্যেও এরকম সাবওয়ে তৈরির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। 

আরও পড়ুনঃ প্রতিমাসে আয় হবে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা! কীভাবে? জানালেন মুখ্যমন্ত্রী

অন্যদিকে, কাছাকাছি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং বাজার  থাকায় নামখানা-লক্ষ্মীকান্তপুর শাখায় করঞ্জলীর কাছে একটি সাবওয়ে তৈরি করা হবে বলে জানা গেছে। বনগাঁ এবং পেট্রাপোল সীমান্ত এলাকার মধ্যে একটি জায়গায় জনবসতি থাকায় সাবওয়ে তৈরীর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। আবার, শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় সোনারপুর-বারুইপুরের মধ্যে এবং কাকদ্বীপ-উকিলের হাট স্টেশনের মধ্যেও ভূগর্ভস্থ পথ তৈরি করা হবে বলে জানানো হয়েছে। কৃষ্ণনগর-শান্তিপুর শাখায় দিকনগর এবং হাতিশালার মধ্যে ন্যাশনাল হাইওয়ে পৌঁছানোর সুবিধা রয়েছে। তবে ওই অঞ্চলে স্কুল এবং হাসপাতাল থাকার কারণে ভূগর্ভস্থ পথ তৈরি করা হচ্ছে। শিয়ালদহ ডিভিশনের রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা জানিয়েছেন, রেল লাইনের নীচে স্থায়ীভাবে ভূগর্ভস্থ পথ তৈরি করার জন্য অনেক খরচ হবে রেলের। তবে দুর্ঘটনা এড়ানো ও স্থানীয় মানুষ এবং রেল যাতায়াত মসৃণ করার জন্য এটি জরুরী। তাই দু’পক্ষের সুবিধার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

Leave a Comment