সরকারি আধিকারিকদের পোস্টিং নিয়মে বড় বদল! কড়া নির্দেশিকা জারি নবান্নর

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এখন থেকে কোনও সরকারি আধিকারিক তাঁর নিজের জেলায় পোস্টিং (New Posting Rules) পাবে না…রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হতেই এবং দুর্নীতির সম্ভাবনা কমাতে এবার বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার (Government Of West Bengal)। গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তর ফিল্ড লেভেলের আধিকারিকদের জন্য নিয়ে এসেছে নতুন বদলি নীতি। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে তিন বছর অন্তর পদ স্থানান্তরিত করা হবে সরকারি আধিকারিকদের (Government Employees)। বাদ পড়বে না রাজস্ব আদায় ও কর সংগ্রহের মতো সংবেদনশীল দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরাও।

নিজ জেলায় আর দেওয়া হবে না পোস্টিং

নবান্নের জারি করা নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সাধারণভাবে কোনও আধিকারিককে তাঁর নিজ জেলায় পোস্টিং দেওয়া হবে না। মূলত জনস্বার্থে এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই নিয়ম অবিলম্বে কার্যকর করা হচ্ছে। তবে চাকরির একেবারে শেষ প্রান্তে অর্থাৎ অবসরের শেষ দুই বছরে এই নিয়মে ব্যতিক্রম করা যেতে পারে। অর্থাৎ সেই সময় কোনও আধিকারিক যাতে হেনস্থার মুখে না পড়েন, সেই মানবিক দিকটিও দেখবে সরকার। প্রশাসনের মতে, এতে একদিকে যেমন স্থানীয় প্রভাব বা স্বার্থের সংঘাতের সম্ভাবনা কমবে ঠিক তেমনই প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় থাকবে।

রাজস্ব আদায়কারী আধিকারিকদের জন্য ভিন্ন নিয়ম

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কোনও সরকারী আধিকারিক একই পদে টানা তিন বছর কাজ করলে তাঁর বদলির বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। কিন্তু কোনও পরিস্থিতিতেই একই দায়িত্বে চার বছরের বেশি রাখা যাবে না। অর্থাৎ কোনো আধিকারিক একই পদে তিন বছর পূর্ণ করলেই তাঁকে বদলির তালিকায় ফেলা হবে। আসলে দীর্ঘদিন একই জায়গায় থেকে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ কার্যত বন্ধ করতে চাইছে সরকার। অন্যদিকে রাজস্ব আদায়, কর সংগ্রহ বা সরকারের অন্য কোনও সংবেদনশীল মাঠপর্যায়ের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের ক্ষেত্রে নিয়ম আরও শক্ত করা হতে চলেছে। স্পষ্ট বলা হয়েছে এই ধরনের পদে বসলে দুই বছর পূর্ণ হলেই বদলি হতে হবে। কোনওভাবেই তিন বছরের বেশি টানা যাবে না।

আরও পড়ুন: “কেন্দ্র মনে করলে এখন সব হবে..” তসলিমার কলকাতায় ফেরা নিয়ে প্রতিক্রিয়া সুজনের

সরকারের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বদলির সময় সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বাস্তব পারিবারিক পরিস্থিতি ও জেলা-সংক্রান্ত সুবিধার দিকটি খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া কোনও ব্যক্তিগত বা শারীরিক অসুবিধা এবং জরুরি প্রশাসনিক সংকটের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দফতরের সুপারিশ নিয়ে এই নিয়মে কিছুটা ছাড় বা শিথিলতা দিতে পারবে। আসলে বিগত কয়েক বছর ধরে, অভিযোগ উঠে আসছে যে সরকারি কার্যালয়ে দীর্ঘদিন একই জায়গায় একই ব্যক্তি দায়িত্বে থাকলে কাজের গতি কমছে। তাই এক্ষেত্রে নবান্নের এই নতুন নীতি কার্যকর হলে কাজের গতি দ্রুত বাড়বে এবং রাজ্য প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি বাড়বে।

Leave a Comment