বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সমুদ্রপথে এবার চিনের আধিপত্য ধ্বংস করতে বিরাট পদক্ষেপ নিল ভারত (UNCLOS)! নয়া দিল্লি ইতিমধ্যেই দক্ষিণ চিন সাগর ইস্যুতে নিজের অবস্থান পুনব্যাক্ত করেছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, ভারত ইতিমধ্যেই সালিশি ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে এবং জাতিসংঘ সমুদ্র আইন সনদ অনুযায়ী উন্মুক্ত সমুদ্রের পক্ষে মত দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সমুদ্রে আধিপত্য বিস্তারের নেশায় মত্ত থাকা চিনকে এই পদক্ষেপের মধ্যে দিয়ে বড় ধাক্কা দিতে পারে ভারত!
চিনকে ধাক্কা দিয়ে মুখ খুলেছে ভারত!
সম্প্রতি ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারত জাতিসংঘের সামুদ্রিক সীমানা সংক্রান্ত কনভেনশন অনুযায়ী নৌ এবং আকাশপথে চলাচলের স্বাধীনতা, সমুদ্রের অন্যান্য আইনসম্মত ব্যবহার এবং অবাধ বাণিজ্য বজায় রাখার জন্য ধারাবাহিকভাবে জোর দিয়ে আসছে। এখানেই শেষ নয়, 14টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক যৌথ বিবৃতি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, দক্ষিণ চিন সাগর নিয়ে চিন বা ড্রাগনের দেশ যে দাবি করছে সেই দাবির কোনও আইনসম্মত ভিত্তি নেই।
এদিন ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, “ভারতের কথা বললে, দক্ষিণ চিন সাগর ইস্যুতে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। আমরা UNCLOS-এ অন্তর্ভুক্ত আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, সমুদ্রপথ এবং আকাশ পথে চলাচলের স্বাধীনতা, সমুদ্রের আইনসম্মত ব্যবহার এবং অবাধ বাণিজ্য বজায় রাখার উপর গুরুত্ব দিই। এই অবস্থান আমাদের বহুদিনের।” এদিকে আমেরিকা, জাপান এবং ফিলিপাইনস নিজেদের যৌথ বিবৃতিতে সমুদ্র চিনের আধিপত্য বিস্তার এবং দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
অবশ্যই পড়ুন: সেমি আরও কঠিন, T20 ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফরম্যাট বদলে দিল ICC
বলাই বাহুল্য, এই তিনটি দেশ ওই বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আমরা UNCLOS অনুযায়ী শান্তিপূর্ণভাবে সামুদ্রিক বিরোধের সমাধান করব।” অন্যদিকে ভারত সহ অন্যান্য দেশগুলির দক্ষিণ চিন সাগর নিয়ে এমন অবস্থানে হতবাক হয়ে গিয়েছে ড্রাগন। চিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র খুব পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, চিন কিছু ইউরোপীয় দেশকে বিচক্ষণতার সাথে কাজ করতে এবং অবৈধ দক্ষিণ চিন সাগর-সালিশী রায়কে সমর্থন না করার আহ্বান জানাচ্ছে। অন্যথায় চিনের সাথে দেশগুলির সম্পর্ক খারাপ হতে পারে! কূটনৈতিক মহলের অনেকেই বলছেন, চিনের সর্বগ্রাসী মনোভাবের বিরোধিতা করে ভারত সালিশি ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করায় একদিক থেকে হেরে গিয়েছে চিন! এই পদক্ষেপ ড্রাগনের দেশকে বড় ধাক্কা দিতে পারে!