ছিলেন চন্দ্রযান-৩ এর সাথে যুক্ত, ইসরো থেকে একযোগে পদত্যাগ শতাধিক বিজ্ঞানীর

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো থেকে গত কয়েক মাসে বিজ্ঞানীদের (ISRO Scientist) পদত্যাগ নিয়ে তোলপাড় গোটা দেশ। একধাক্কায় প্রায় ১০০ জনের বেশি বিজ্ঞানে চাকরি ছেড়েছেন বলে খবর। এমনকি তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন চন্দ্রযান-৩, এলভিএম-৩ ইত্যাদি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত। তবে এই পদত্যাগের হিড়িক বাড়তেই এবার বিজ্ঞানীদের স্বেচ্ছা অবসর ও পদত্যাগের নিয়ম আরও কঠোর করে ফেলল মহাকাশ গবেষণা সংস্থা।

চাকরি ছেড়েছেন প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন বিজ্ঞানী

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন বলছে, মহাকাশ গবেষণা সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করলেও প্রায় ১০০ থেকে ১২০ জন বিজ্ঞানী ইতিমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে ইউআরএসসি থেকে ৮০ জনের বেশি এবং ভিএসএসসি থেকে অন্তত ২০ জন ইস্তফা দিয়েছেন বলেই খবর। এমনকি তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন স্যাটেলাইট সেন্টার, স্যাটেলাইট নকশা, উন্নয়ন, উৎপাদন বা পরীক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। না উল্লেখ করলেই নয়, এলভিএম-৩ প্রকল্পের পরিচালক ভিক্টর জোসেফ নিজেই বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার থেকে পদত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে চন্দ্রযান-৩ মিশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার আদিত্য রাল্লাপল্লিও এই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন। এছাড়াও রয়েছেন স্পাডেক্স প্রকল্পের পরিচালক।

প্রসঙ্গত, আগে ইসরো তাদের কর্মী বা বিজ্ঞানীদের স্বেচ্ছায় অবসরের অনুমোদন দিয়েছিল। কিন্তু পদত্যাগের ঢেউ বাড়তেই ২০২০ সালের নিয়মগুলি বাতিল করা হয়েছে। আর নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় পরিচালক, গগনযান বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মিশনের সঙ্গে জড়িত বিজ্ঞানীরা এবার অনুমোদন ছাড়া পদত্যাগ করতে পারবেন না। এখন থেকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সরাসরি মহাকাশ বিভাগে সুপারিশ পাঠাতে হবে।

আরও পড়ুন: পেট্রোল-ডিজেল নিয়ে বিরাট সিদ্ধান্ত সরকারের, দাম কমবে জ্বালানির?

যদিও বর্তমানে ইসরোতে ১৪,৬০০ এর বেশি কর্মী কর্মরত। কিন্তু সাম্প্রতিক এই পদত্যাগ বেশ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে সংস্থার চেয়ারম্যান ভি. নারায়ণন জানান, “এটা সত্যি যে অনেকেই চলে যাচ্ছেন। কিন্তু এটা প্রতিষ্ঠানেরই অংশ। কেউ চলে গেলে অন্য কেউ দায়িত্ব নেবে। আমরা পুরো পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছি।” যদিও ইসরোতে পদত্যাগের এই ঢেউ নতুন কিছু নয়। ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যেও প্রায় ৭০০ জন কর্মী পদত্যাগ করেন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা থেকে। এর পাশাপাশি ২০১৭ সালের মধ্যে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রায় অর্ধেক কর্মী চাকরি ছেড়েছিলেন।

Leave a Comment