বঙ্গোপসাগরে ভয়াবহ নৌকাডুবি! প্রায় ৫০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মৃত্যুর আশঙ্কা

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে রোহিঙ্গা (Rohingya) শরণার্থী বোঝাই দুটি নৌকা ডুবে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। রাষ্ট্রসঙ্ঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে যে, এই দুর্ঘটনায় আনুমানিক ৫০০ জনের মৃত্যু হতে পারে বা নিখোঁজ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর যদি এই তথ্য নিশ্চিত হয় তাহলে এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবথেকে বড় ভয়াবহ সামুদ্রিক দুর্ঘটনা হিসেবেই বিবেচিত হতে পারে।

মিয়ানমার উপকূলে ভয়াবহ দুর্ঘটনা

প্রাথমিক পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নৌকাদুটি জুন মাসের শেষ দিকে সংঘাতপীড়িত মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করে। যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থী হিসেবে এই যাত্রায় যোগ দিয়েছিলেন। জানা যাচ্ছে, একটি নৌকায় প্রায় ২৫০ জন যাত্রী ছিলেন। তবে সমুদ্রযাত্রা শুরু করার কিছুক্ষণ পরই নৌকাটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। অপর নৌকায় আনুমানিক ২৮০ জন যাত্রী ছিলেন, যেটি মিয়ানমারের আয়েয়ারওয়াডি উপকূলের কাছে ডুবে গিয়েছে বলেই প্রাথমিকভাবে অনুমান।

তবে ঘটনাটি ঠিক এমন সময় ঘটেছে যখন বঙ্গোপসাগরে প্রবল বর্ষণ চলছে। এই সময় সমুদ্র এমনিতেই উত্তাল এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নৌপথে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ। রাষ্ট্রসঙ্ঘের সংস্থাগুলি জানাচ্ছে, ভারী বৃষ্টি, প্রবল ঢেউ এবং খারাপ আবহাওয়ার কারণে বর্তমানে এই সমুদ্রপথে যাত্রা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। যদিও হতাহতের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু সম্ভাব্য প্রাণহানির পরিমাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে আন্তর্জাতিক মহল।

আরও পড়ুন: বেআইনি লেনদেনের অভিযোগ, বাংলার একাধিক মাদ্রাসায় চলছে চিরুনি তল্লাশি

না বললেই নয়, দীর্ঘদিন ধরেই মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী নানা ধরনের বৈষম্য, নিষেধাজ্ঞা এবং মৌলিক পরিষেবার অভাবের মুখোমুখি। অনেকেই নিরাপত্তা এবং উন্নত জীবনযাত্রার আশায় সমুদ্রপথে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পৌঁছনোর চেষ্টা করছেন। আর বর্তমানে বাংলাদেশে আনুমানিক ১২ লক্ষ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন। কিন্তু অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর সীমিত সুযোগ-সুবিধার কারণে এখনও পর্যন্ত অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথকেই বেছে নিচ্ছেন। এমনকি অতীতে বহু রোহিঙ্গা নারী, শিশু এবং পুরুষ এই পথ পাড়ি দিতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। আর সেই স্মৃতি আরও একবার ফিরে এল।

Leave a Comment