প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সরকার পরিবর্তন হতেই এবার কোপ পড়ল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) লেখা বইগুলির উপর! এখন থেকে সরকারি লাইব্রেরিগুলিতে আর দেখা যাবে না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই। একই নিয়ম চালু হবে স্কুল কলেজের গ্রন্থাগারেও (Government Libraries)। বড় সিদ্ধান্তের পথে এগোচ্ছে নয়া বিজেপি সরকার। এমনিতেই ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই ব্যাকফুটে তৃণমূল সুপ্রিমো। এমতাবস্থায় মহাসংকটে পড়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সাহিত্যকীর্তি’।
মমতার লেখা বই থাকবে না লাইব্রেরিগুলিতে
তৎকালীন তৃণমূল সরকারের আমলে ঘোষণা করা হয়েছিল যে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি স্কুল ও সব লাইব্রেরিতে থাকবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই। তাই সেই মতো স্কুলগুলিতে বই রাখা হয়েছিল। তবে, পালা বদলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই সরিয়ে দিতে তৎপর হতে উঠল বিজেপি সরকার। রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর মন্ত্রীর নির্দেশনায় সম্প্রতি গ্রন্থাগার দপ্তর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই আর কিনবে না সরকারি লাইব্রেরিগুলি। পাঠকদের চাহিদা অনুযায়ী এবং পড়ুয়াদের প্রয়োজন অনুযায়ীই বই পাঠানো হবে। স্কুল, কলেজের গ্রন্থাগারেও একই নির্দেশ আনা হবে।
আরও পড়ুন: জন্ম-মৃত্যুর সার্টিফিকেট নিয়ে আরও কড়াকড়ি, নয়া নিয়ম পশ্চিমবঙ্গ সরকারের
কী বলছেন গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর?
প্রশাসনের দাবি, তৃণমূল জমানায় সরকারি লাইব্রেরি এবং স্কুল–কলেজের গ্রন্থাগারগুলিকে কার্যত বাধ্য করা হত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বই কেনার জন্য। তবে এবার আর সেই রাজনৈতিক চাপ নেই। উপর থেকে আর বইয়ের তালিকা চাপিয়ে দেওয়া হবে না জেলা লাইব্রেরিগুলিকে। কিছুদিন আগেই, গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়ে ছিলেন যে, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এপাং ওপাং ঝপাং মার্কা বই রাখতে তৃণমূল আমলে চাপ দেওয়া হত লাইব্রেরিগুলিকে। ওইসব সরিয়ে এখন থেকে জাতীয়তাবাদী, দেশপ্রেম ও ইতিহাসের বই বেশি করে রাখা হবে। এছাড়াও পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে যেগুলো দরকারী সেই বই আনা হবে।”
আরও পড়ুন: শেষ সম্বল বাড়িটাও বেচে দেন ব্যবসার জন্য, আজ ২৮০ কোটির টার্নওভার রাহুলের কোম্পানির
প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বইয়ের সংখ্যা দু’শোরও বেশি। সেই বই বিক্রির টাকায় তাঁর সংসার চলে বলে একাধিকবার দাবি করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। আর এবার সেই উপার্জনের রাস্তায় তালা ঝোলাতে চলেছে বাংলার নতুন বিজেপি সরকার। কারণ, পাঠকদের কাছে ওই বইগুলির কোনও চাহিদা নেই এবং লাইব্রেরিতে এসে কেউ মমতার বইয়ের খোঁজও করে না। তাই নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে সেই বই সরাতে চলেছে প্রশাসন। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী চাইছেন, লাইব্রেরির জন্য বই নির্বাচনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে। তাঁর মতে পাঠকদের চাহিদা, পড়ুয়াদের প্রয়োজনীয়তাই লাইব্রেরির জন্য বইয়ের তালিকা তৈরির একমাত্র মাপকাঠি হওয়া উচিত।