কালীঘাট কর্মসূচিতে উদয় হলেন মদন মিত্র, কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না কুণাল ঘোষ

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: অবাক চিত্র প্রকাশ্যে এল বিধানসভায়! ঋতব্রত শিবিরের সদস্য মদনকে (Madan Mitra) দেখা গেল কালীঘাট তৃণমূলের কর্মসূচিতে, চরম শোরগোল রাজনৈতিক অন্দরে। আজ, শুক্রবার নিট-কাণ্ডে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের দাবিতে অনশনে বসা সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে বিধানসভা (West Bengal Assembly) চত্বরেই ধর্নায় বসেছিলেন কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়কেরা। আর সেখানেই বিধানসভার বিরোধী দলনেতার ঘর থেকে বেরিয়ে হঠাৎই সেখানে চলে যান মদন।

কালীঘাট তৃণমূলের কর্মসূচিতে মদন মিত্র!

সূত্রের খবর, গত বুধবার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। আচমকা সেদিন মদনের এই সিদ্ধান্তে রীতিমত রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন দেখা গিয়েছিল। কিন্তু আজ ঠিক দুইদিন পড়ে দেখা গেল অন্য চিত্র। হঠাৎই বিধানসভায় কালীঘাট তৃণমূলের কর্মসূচিতে হাজির হলেন মদন মিত্র। পরনে ছিল গেরুয়া রঙের পাঞ্জাবি, যা দেখে চমকে যান অনেকেই। কথা বললেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে। যদিও সেই কর্মসূচিতে মদনকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ।

আরও পড়ুন: কিচ্ছু করতে পারবে না পুলিশ! অভিষেককে বিরাট স্বস্তি দিল হাইকোর্ট

মদনকে কটাক্ষ করলেন কুণাল ঘোষ!

মদন মিত্রকে দেখে এদিন কুণাল ঘোষ কটাক্ষের সুরে হাসতে হাসতে বলেন, “মদনদা শারীরিক ভাবে ওই দিকে গিয়েছে। কিন্তু মন অন্য দিকে পড়ে রয়েছে। উনিও জানেন ধর্ষক কে। কাপুরুষের মতো ED দিয়ে, বউদি আর ছেলেদেরকে নোটিশ দিয়েছে, মদনদা ভাল থাকুক। দু-চার দিন যা মন চায়, প্রাণ চায় বলুক। আমরা জানছি, আমাদের ভিতরের একটা লোক ওদের মধ্যে রইল।” যদিও হাসিমুখে কুণালের সব কথা শুনলেও চুপ করে তিনিও থাকেননি। মদন জানান, “আমার মনে হচ্ছে, ওর (কুণাল) মন হারানোর সময় খুব তাড়াতাড়ি আসছে।” এছাড়াও শোভনদেব ভট্টাচার্যের উদ্দেশে মদনকে বলতে শোনা যায়, “আমি চাই শোভনদা আগামী ১০ বছর বিরোধী আসনে বসুক।” পাল্টা জবাবে, শোভনদেব বলেন, “১০ বছর বিরোধী আসনে বসব! এটা কী বললি? আবার আসিব ফিরে।”

আরও পড়ুন: বিকেলে বৃষ্টির সম্ভাবনা, উত্তরবঙ্গেও দুর্যোগ, কেমন থাকবে আগামীকালের আবহাওয়া?

কালীঘাটের কর্মসূচিতে যোগদান নিয়ে যখন আলোচনা চলছিল তখন মদন মিত্র স্পষ্ট ব্যাখ্যা করে বলেন যে, সৌজন্যবোধ থেকে কালীঘাট তৃণমূলের কর্মসূচিতে থেকে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার জন্য তাঁর অবস্থান বদল হচ্ছে না। এরপরই তিনি পরিবারের সদস্যদের ED তলব প্রসঙ্গে জানান, “আমার স্ত্রী-পুত্রকে দেশের এজেন্সি ডেকেছে। তারা যাবে। এর আগেও ডেকেছে। সত্যিই যদি আমি অন্যায় করে থাকি, তার তো বিচার হওয়া উচিত।” অর্থাৎ সব মিলিয়ে হালকা মেজাজ, হাসি-ঠাট্টার ছলেই এই পর্ব মিটেছে।

Leave a Comment