সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবার বাংলাদেশ সরকার তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (Teesta River Project) বাস্তবায়নের দায়িত্ব ড্রাগনের দেশের হাতে হস্তক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নিল। তবে এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার ভু-রাজনৈতিক সমীকরণে আবারও জটলা পাকাচ্ছে। বিশেষ করে ভারত এই সিদ্ধান্তকে কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা শুরু করেছে। কারণ, তিস্তা নদী ভারত আর বাংলাদেশের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তঃসীমান্ত নদী।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই তিস্তা নদী প্রকল্প?
আসলে তিস্তা নদীর উৎপত্তি ভারতের সিকিমে। এরপর এটি পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সরাসরি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। যার ফলে নদীটির জল ব্যবস্থাপনা, সেচ ব্যবস্থা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ কিংবা দুই দেশের কৃষি ও পরিবেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। আর প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় হতে পারে প্রায় ৯০০০ কোটি টাকা। বেশ কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ভারতের বিনিয়োগ প্রস্তাবের পরিবর্তে চিনের কাছ থেকে সহজ শর্তে ঋণ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার পরিমাণ প্রায় ৭০০০ কোটি টাকা।
তাহলে ভারতের উদ্বেগ কোথায়?
আসলে ভারতের অন্যতম বড় উদ্বেগের বিষয় হল এই প্রকল্পের ভৌগোলিক অবস্থান। তিস্তা নদীর একটি বৃহৎ অংশ শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি অবস্থিত। তবে এই চিকেনস নেক ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংবেদনশীল অঞ্চলের কাছাকাছি চিনের উপস্থিতি ভবিষ্যতে ভারতের জন্য নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারি কোনও তথ্য প্রকাশ হয়নি।
আরও পড়ুন: পুলিশের তদন্তে উঠে এল দময়ন্তী সেনের নিখোঁজ হওয়ার আসল কারণ
এমনকি প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় চিনা প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ এবং ভারী নির্মাণ সরঞ্জাম ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে বলে খবর। কিছু বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিদেশী প্রযুক্তির উপস্থিতি ভবিষ্যতে আবার নজরদারি কাঠামো সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি তিস্তা একটি আন্তঃসীমান্ত নদী হওয়ার কারণে এর জলপ্রবাহ, জলস্তর দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। আর নদী ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবেই এই ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। এখন দেখার, পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।