সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অভিষেক ব্যানার্জির (Abhishek Banerjee) জন্যই তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে খানখান। দাবি শিবির পরিবর্তনকারী তৃণমূলের বিধায়ক ও সাংসদদের। তবে এদিন ওপেন চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তৃণমূল সাংসদ জানিয়েছেন, “আপনারা ফিরে আসুন। আমি ১ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দেব।” তবে তাঁর এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই প্রাক্তন তৃণমূল তথা বর্তমান এনসিপিআই সাংসদ সায়নী ঘোষ (Saayoni Ghosh) এবার সুর চড়ালেন।
অভিষেককে কী বললেন সায়নী ঘোষ?
এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়ে অভিষেকের ইস্তফার প্রসঙ্গ উঠতেই সায়নী স্পষ্ট বলেন যে, “ভেরি নাইস টু হিম। উনি যেটা বলেছেন, ওটা উনি আরও বেটার বলতে পারবেন। এ বিষয়ে আমি বেশি কিছু বলব না।” তাঁর এই বক্তব্য সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। যে সায়নীর সঙ্গে অভিষেকের এত ঘনিষ্ঠতা ছিল, তিনি কীভাবে রাতারাতি পরিবর্তন হয়ে গেলেন? এমনকি শুধু সায়নী নন, বরং এদিন সাংসদ শতাব্দী রায়ও দাবি করেন যে, “অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। ৫ তারিখই পদত্যাগ করলে হয়ত দিদিকে এই দিন দেখতে হত না।” পাশাপাশি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, মদন মিত্ররাও কটাক্ষ করতে ছাড়েন না তৃণমূল সাংসদকে।
উল্লেখ্য, শনিবার আমতলার পার্টি অফিস ভাঙা নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দলত্যাগীরা যদি আবারও তৃণমূলে ফিরে আসেন তাহলে তিনি ১ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দেবেন।” তাঁর কথায়, “আপনারা ফিরে আসুন। ২০ তারিখ আসুন। ২১ তারিখ আসুন। আজই আসুন। আমি ১ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা দিচ্ছি। চ্যালেঞ্জ করলাম।” তবে তাঁর এই মন্তব্য সামনে আসতেই দলত্যাগী তৃণমূল বিধায়ক থেকে সাংসদরা কটাক্ষ করতে ছাড়েন না। প্রাক্তন অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “এত দেরিতে বোধদয় কেন হল?” পাশাপাশি শতাব্দীকে বলতে শোনা যায়, “আমার মনে হয় ৪ তারিখের ফল প্রকাশের পর ৫ তারিখেই এটা করে নিলে ভালো হত। তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক কেরিয়ার অন্যরকম হত।”
আরও পড়ুন: ১ সেপ্টেম্বর থেকে সমস্ত সরকারি কাজে বাংলা ভাষা বাধ্যতামূলক, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
তবে শুধু অভিষেক নন, বরং তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দলত্যাগী বিধায়ক, সাংসদদের ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ফেসবুক লাইভে এসে দাবি করেন, “এখনও সময় আছে। বিজেপির কোলে আশ্রয় না নিয়ে নিজের ঘরে ফিরুন। একবার পরিবারকে প্রশ্ন করুন। আর একবার মানুষকে প্রশ্ন করুন। কর্মীরা মার খেয়েছে। মনে রাখবেন, এরাও আপনাদের জন্য একদিন রক্ত দিয়েছে। বেইমানদের সঙ্গে বেইমানি করতে যাবেন না। হয় সরাসরি বিজেপি করুন। নাহলে সরাসরি তৃণমূল করুন।”