প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই পূর্বতন সরকারের একের পর এক কেচ্ছা কেলেঙ্কারির তথ্য জনসমক্ষে উঠে আসছে। ইতিমধ্যেই দুর্নীতি ও তোলাবাজির ঘটনায় একের পর এক তৃণমূল নেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী, প্রাক্তন বিধায়ককে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর এই পরিস্থিতিতে এবার তৃণমূল জমানায় রাজ্য পুলিশে চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের (Contractual Recruitment In West Bengal Police) যাবতীয় তথ্য তলব করা হল। আর এই গোটা বিষয়ের দায়িত্বে রয়েছে ভারতীয় অডিট ও অ্যাকাউন্টস বিভাগ।
তথ্য তলবের নির্দেশ স্বরাষ্ট্র দফতরের
পূর্বতন সরকারের আমলে নিয়োগ সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছিল খবরের শিরোনামে। আর এই দুর্নীতির কারণে ইতিমধ্যেই SSC-র প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক শিক্ষিকারা চাকরি হারিয়েছে। আর এবার সরকার বদল হতেই নজরে এল রাজ্য পুলিশের চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের তথ্য। প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪-এর ১ এপ্রিল থেকে ২০২৫-এর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ হয়েছে তার তথ্য তলব করার নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতর। জানা গিয়েছে, রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ, হোমগার্ড, ফরেন্সিক ল্যাব-সহ একাধিক দফতরকে আগামী ২৪ জুলাই-এর মধ্যে বিস্তারিত তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
লিখিত পরীক্ষা ও মেডিক্যাল পরীক্ষার তথ্য যাচাই হবে
সূত্রের খবর, অডিটে CPVF, VPVF, THG, চুক্তিভিত্তিক ড্রাইভার, হোমগার্ড, NVF, IT কর্মী, Group-B, C ও D কর্মী-সহ সব ধরনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের তথ্য চাওয়া হয়েছে। এছাড়াও নিয়োগের আগে শূন্যপদ ছিল কি না, নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা ছিল কিনা, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, আবেদনকারীর সংখ্যা, লিখিত পরীক্ষা, শারীরিক পরীক্ষা, মেডিক্যাল টেস্ট, পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়েছে কি না, তারও বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অডিটে আরও জানতে চাওয়া হয়েছে যে নিয়োগে চুক্তির শর্ত, বেতন, PF, ESI, স্বাস্থ্যবিমা, ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটি, চাকরি নবীকরণ, অবসর ও চাকরি থেকে অব্যাহতির নিয়ম কীভাবে কার্যকর করা হয়েছে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ২১ জুলাইয়ের সভায় যাওয়ার আগেই আটক চুঁচুড়ার প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদার
অডিটের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র দফতর এও জানতে চেয়েছে যে, চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের কর্মদক্ষতা, শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা এবং আউটসোর্সিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগে টেন্ডার প্রক্রিয়া মানা হয়েছে কি না সবটাই। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে যে, নতুন সরকার আসতে না আসতেই পূর্বতন সরকারের সমস্ত দুর্নীতি, কলঙ্ক গোড়া থেকে বের করার জন্য উঠে পরে লেগেছে বিজেপি। এখন দেখার এই নিয়োগে যাচাইয়ের ফলে কোনো দুর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসে কিনা।