বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সাথে কথা কাটাকাটি! একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ ছেড়ে সোজা বাড়ি চলে গেলেন কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। মঙ্গলবার, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে মঞ্চ বেঁধে শহীদ সমাবেশের আয়োজন করেছিল কালীঘাট তৃণমূল। এদিন হাজার হাজার কর্মী সমর্থকের সামনে মঞ্চে দাঁড়িয়ে একে একে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন কালীঘাট তৃণমূলের নেতারা। সেই মতোই, মঞ্চে উঠে একটানা 22 মিনিট বক্তৃতা রাখেন কল্যাণ। যেখানে নেত্রী মমতা তাঁকে সংক্ষেপে বক্তৃতা শেষ করার কথা বলেছিলেন। তবে সেই কথায় কর্ণপাত না করায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বক্তৃতা রাখতে পারেননি মহুয়া মৈত্র, দোলা সেনরা।
মমতার সাথে অশান্তি কল্যাণের?
কালীঘাট তৃণমূলের কয়েকটি সূত্র মারফত জানা গিয়ে, মঙ্গলবার তারামণ্ডলের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের শহীদ সমাবেশে বক্তাদের তালিকা ছিল বেশ দীর্ঘ। সে কারণেই নেত্রী আগে থেকে প্রত্যেককে সংক্ষেপে বক্তব্য শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মমতার কথা মতোই চলছিল সবই। তবে গন্ডগোল বাঁধল শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তৃতা করতে ওঠার পর।
এদিন নেত্রী সংক্ষেপে বক্তৃতা রাখতে বললেও নানান প্রসঙ্গ তুলে বক্তব্য দীর্ঘ করে ফেলেছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সংক্ষেপে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একেবারে 22 মিনিট পর্যন্ত ভাষণ দেন তৃণমূল নেতা। যার কারণে পরবর্তীতে নাকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে খানিকটা কথা কাটাকাটি হয়েছিল তাঁর। পরে নাকি ধমকের সুরে কল্যাণের সাথে কথা বলেছিলেন মমতা। আর সে কারণেই পরবর্তীতে ক্ষুব্ধ হয়ে মঞ্চ ছেড়ে সোজা বাড়ি চলে যান তৃণমূল সাংসদ!
বলাই বাহুল্য, এদিন কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য দীর্ঘ হওয়ায় বক্তৃতা করতে পারেননি তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ, রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ, দোলা সেন, রাজিব কুমারেরা। তাতে প্রত্যেকের মুখেই ছিল বিরক্তির ছাপ! এদিকে নেত্রীর সাথে কথা কাটাকাটি হওয়ায় মমতার ভাষণ শোনার অপেক্ষা না করেই রেগে নাকি বাড়ি চলে গিয়েছিলেন কল্যাণ। পরে অবশ্য তাঁর কাছে গোটা বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে তিনি মমতার সাথে ঝামেলার খবর উড়িয়ে দিয়েছেন।
অবশ্যই পড়ুন: ঝামেলা শেষ, ইন্টারনেট ছাড়াই হবে UPI পেমেন্ট! বিশেষ ফিচার চালু হতে চলেছে ভারতে
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সোমবার রাত জেগে ছিলেন। তাই জ্বর এসেছে। শারীরিক অসুস্থতার কারণে সোজা বাড়ি চলে গিয়েছিলেন তিনি। নেত্রীর সাথে অশান্তির কোনও প্রশ্নই ওঠে না। কল্যাণের কথায়, “বচসা হলে কি ওভাবে মঞ্চের সামনে গিয়ে বক্তৃতা করতাম?” যদিও সূত্রের খবর, মমতার সাথে কল্যাণের বচসা বেঁধেছিল বক্তৃতা করার পর।