অনন্যা সরকার, কলকাতা: রাজস্থানের বারমের জেলায় বালির টিলা দিয়ে ঘেরা শুষ্ক গ্রাম, সঞ্জাতা। এখানে খাদ্য, জল ও বাসস্থানের মত মৌলিক সুবিধাগুলি পেতেই করতে হয় কঠিন সংগ্রাম। সেখানে থেকে উঠে আসা ২০ বছরের পোলা রাম এমন এক অসাধ্য সাধন করেছেন (Success Story of Pola Ram), যা তাঁর পরিবারের কেউ কখনও কল্পনাও করতে পারেননি। সর্বভারতীয় ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষায় (NEET UG 2026) ৭২০ নম্বরের মধ্যে ৬৫৭ নম্বর পেয়ে এই শ্রমিকের পুত্র আজ ডাক্তারির জগতে পা রেখেছেন।
অতি দরিদ্র পরিবারে বেড়ে উঠেও ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পোলা রামের
মরুভূমি কাছে খড় ও বাঁশের চাল দিয়ে তৈরি এক কামরার একটি মাটির ঘরেই বড় হয়ে ওঠা পোলা রামের। যখনই প্রবল জোরে হওয়া বইত, ঘর ভরে যেত বালিতে। সংসার চালানোর জন্য তাঁর বাবা-মা দুজনেই মনরেগা (MNREGA) শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তবে ২০২১ সালে মাকে হারান পোলা রাম। কয়েক বছর আগেও ডাক্তার হওয়া তাঁর কাছে একটা অসম্ভব স্বপ্ন ছিল।
আরও পড়ুন: ২৬ বছর বয়সেই সাফল্য, AI প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে একদিনে ৭৭ কোটি আয় ভারতীয় যুবকের
তবে ছোট ভাইয়ের স্বপকে সফল করতে এগিয়ে আসেন দাদা। ঠিকমতো খাবারও জুটতো না অনেক সময়, তখন বড় ভাই তাঁর বাবার অসুস্থতা, বোনের বিয়ে এবং ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে অনেক বড় ত্যাগ স্বীকার করেন। তিনি পরিবারের দেখাশোনা করার জন্য পড়াশোনা ছেড়ে রাজস্থান থেকে চেন্নাইয়ে এসে একটি হোটেলে ওয়েটারের কাজ নেন। দাদার সাহায্যের জন্যই পোলা রাম নিট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পেরেছেন এবং এইমস (AIIMS) ও বিএইচইউ (BHU)-এর মতো দেশের নামজাদা মেডিকেল কলেজে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
বারমের জেলা হাসপাতালের ডাক্তারদের দ্বারা পরিচালিত একটি স্বেচ্ছাসেবী কর্মসূচি, ‘ফিফটি ভিলেজার্স’ (50 Villagers)-এর জন্য নির্বাচিত হওয়ার পর পোলা রামের ভাগ্য বদলে গেছে। এই কর্মসূচির অধীনে তাকে দুই বছরের জন্য বিনামূল্যে আবাসিক কোচিং ও থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই সাফল্য সত্ত্বেও, ডাক্তারি শিক্ষার খরচ জোগাতে হয়তো পিছিয়ে যেতে পারে তাঁর ছোট বোনের বিয়ে।
আরও পড়ুন: ছিলেন ১০০ দিনের কাজের মজুর, আজ জয়েন্ট BDO হয়ে ‘জিরামজি’র দায়িত্বে সৌরভ
গত ১৬ জুলাই তারিখে নিট ইউজি (NEET UG) রি-এক্সামের ফলাফল প্রকাশিত হয়। চরম প্রতিকূলতা সত্ত্বেও নিট-এ অসাধারণ রেজাল্ট করেছেন পোলা রাম। ৬৫৭ নম্বর পেয়ে তাঁর সর্বভারতীয় র্যাঙ্ক (AIR) ১০৪১। আর ওবিসি (OBC) বিভাগে ৩২১তম স্থান অর্জন করেছেন তিনি। ফলে তিনি অনায়াসেই মৌলানা আজাদ মেডিকেল কলেজ, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় বা এইমস-যোধপুরের মতো শীর্ষস্থানীয় মেডিকেল কলেজগুলিতে ভর্তি হতে পারবেন। পোলা রাম চান ডাক্তার হয়ে আবার ফিরে যেতে তাঁর জন্মভূমিতে, যেখানে অসহায়, দরিদ্র মানুষগুলির সেবা করবেন তিনি। প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই, পারিবারিক ত্যাগ, কঠোর পরিশ্রম এবং হাল না ছাড়ার অদম্য জেদের কারণেই সাফল্য ছিনিয়ে আনতে পেরেছেন পোলা রাম। তাঁর এই কাহিনী এখন দেশের অগণিত তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।