নির্দেশ দিলেই হবে কাজ! বিশ্বের প্রথম AI এজেন্ট ফোন আনছে Nubia

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: প্রযুক্তির দুনিয়ায় এবার নতুন প্রতিযোগিতা। শুধুমাত্র শক্তিশালী প্রসেসর বা উন্নত ক্যামেরা নয়, এবার স্মার্টফোন কোম্পানিগুলির লক্ষ্য এমন ডিভাইস তৈরি করা, যা ব্যবহারকারীর হয়ে নিজেই বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করতে পারবে। সেই দৌড়ে এবার নতুন চমক দেখিয়ে ফেলল চিনা স্মার্টফোন নির্মাতা সংস্থা Nubia। সম্প্রতি চিনের একটি অনুষ্ঠানের সংস্থাটি তাদের নতুন NaviX Ultra স্মার্টফোনের ঝলক দেখিয়েছে। আর এটি এমন একটি এআই এজেন্ট স্মার্টফোন (AI Agent Phone), যা শুধুমাত্র ভয়েস কমান্ডের সাহায্যেই বিভিন্ন ডিজিটাল কাজ সম্পন্ন করতে পারবে।

কীভাবে কাজ করবে এই এআই এজেন্ট ফোন?

Nubia তাদের নতুন ফোনে ব্যবহার করেছে Doubao AI প্রযুক্তি, যা ByteDance এর তৈরি জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক চ্যাটবট। উল্লেখ্য, ByteDance বিশ্ব বিখ্যাত শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটকের মূল সংস্থা। আর এই এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীদের নির্দেশনায় বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে খাবার অর্ডার করতে পারবে। এমনকি অনলাইন শপিং বা তথ্য অনুসন্ধান করতে পারবে। পাশাপাশি মেসেজ দেখা কিংবা অন্যান্য দৈনন্দিন কাজে সম্পন্ন করতে পারবে। অর্থাৎ, আলাদা করে প্রতিটি অ্যাপ খুলে খুলে কাজ করার পরিবর্তে শুধুমাত্র একটি ভয়েস কমান্ডেই হবে কাজ।

প্রসঙ্গত, এটি অবশ্য ByteDance প্রথম এআই এজেন্ট ডিভাইস নয়। এর আগে সীমিত সংখ্যায় Doubao ফোন বাজারে আনা হয়েছিল। আর সেই ফোনে এআই এজেন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাজারে আসার কিছুদিনের মধ্যেই বড় প্রযুক্তি সংস্থা যেমন Alibaba, Tencent এর মতো কোম্পানি নিজেদের প্ল্যাটফর্মে এই ধরনের অনুমোদিত অ্যাক্সেস বন্ধ করে দেয়। যার ফলে এজেন্টের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফিচার সীমিত হয় এবং পরিষেবা বন্ধ করতে বাধ্য হতে হয়।

আরও পড়ুন: কার্গিলের শহিদের নামে হোক ব্যারাকপুর সেন্ট্রাল রোড, মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি কৌস্তব বাগচীর

কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই এআই এজেন্ট প্রযুক্তির সবথেকে বড় বাধা হল বিভিন্ন অ্যাপ এবং পরিষেবার সঙ্গে সংযোগ করা। প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, অধিকাংশ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তাদের ব্যবহারকারীদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তাই অন্য কোনও এজেন্ট যাতে তাদের অ্যাপের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে না পারে, সেই দিকে তারা নজর রাখছে। এমনকি এর ফলে এআই এজেন্ট প্রযুক্তি যতই সম্ভাবনাময় হোক না কেন, এটি বাস্তবে সফল করতে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির মধ্যে সমন্বয় এবং নিরাপদ এপিআই-র ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরে স্মার্টফোন ব্যবহারের ধরনের বদলে যেতে পারে। বিভিন্ন অ্যাপ খুলে খুলে দেখার প্রয়োজন পড়বে না। শুধুমাত্র এআই-কে নির্দেশ দিলেই হবে কাজ। এখন দেখার এই ফোন কবে বিশ্বব্যাপী লঞ্চ হয়।

Leave a Comment