সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের (Annapurna Bhandar) টাকা পাননি রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলা। আবেদন বাতিল হয়েছে তাদের। যদিও পুনরায় ভেরিফিকেশন করা হচ্ছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। কিন্তু সেই ভেরিফিকেশনের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে রাজ্যের আশা কর্মীদের (Asha Workers) উপরেই। এতেই তাদের আপত্তি। একাধিক দাবি জানিয়ে মঙ্গলবার আরামবাগের এসডিও এবং বিডিও অফিসে ডেপুটেশন জমা দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের অঙ্গনওয়াড়ি ওয়ার্কার এবং হেলপার্স ইউনিয়ন। কী কারণে তাঁদের অনীহা?
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ভেরিফিকেশন নিয়ে আপত্তি আশা কর্মীদের
রাজ্যের আশা কর্মীদের দাবি, যে সমস্ত মহিলারা টাকা পাচ্ছেন না অর্থাৎ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩০০০ টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকছে না তাদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে আশা কর্মীদের। তাদেরকে দায়ী করা হচ্ছে যে তাদের জন্যই নাকি অন্নপূর্ণার টাকা ঢোকেনি। সেই কারণেই তারা এবার ডেপুটেশন জমা দিতে আসলেন এসডিও এবং বিডিও অফিসে। এদিন আরামবাগ এসডিপিও অফিস থেকে পদযাত্রা করে এসডিও এবং বিডিও অফিসে পৌঁছন কর্মী এবং সহায়িকারা। সেখানেই তারা স্মারকলিপি জমা দেন।
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের আরও অভিযোগ, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্মের ভেরিফিকেশনের সময় কোনও সরকারি আধিকারিক তাদের সঙ্গে উপস্থিত থাকছেন না। যা করার তাদেরকেই করতে হচ্ছে। সেই কারণে টাকা না ঢুকলে তাদেরকেই দায়বদ্ধ করা হচ্ছে। এক মহিলা স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এখন আমাদের দিয়েই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ভেরিফিকেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করানো হচ্ছে। আমরা এই কাজ করব না সেটা বলছি না। কিন্তু আমরা চাই আমাদের সঙ্গে কোনও সরকারি আধিকারিক থাকুক। তাহলে আমাদের উপর দায় চাপানোর প্রবণতা কমবে।
আরও পড়ুন: হাইরোডে বন্ধ টোটো-অটো চলাচল, জেলা শাসকের কাছে গেল নোটিশ
তবে শুধু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নয়, বরং এদিন রাজ্যের মা-শিশুদের খাদ্যের মনোনয়ন, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির উন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে একাধিক দাবিতে তারা ডেপুটেশন জমা দিয়েছেন। তাদের স্পষ্ট দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাগুলি প্রশাসনের নজরে আনা হলেও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এ বিষয়ে কোনও সমাধান মেলেনি। তাছাড়া অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের পাশাপাশি আয়ুষ্মান ভারতের ফর্ম জমা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।