সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: শিক্ষাক্ষেত্রে ডিজিটাল রূপান্তরকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার APAAR ID চালু করেছে। এর মূল লক্ষ্য হল প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য একটি স্থায়ী ডিজিটাল শিক্ষগত পরিচয় তৈরি করা। কিন্তু এই আইডি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই গোপনীয়তা এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা নিয়ে বিতর্ক চলছে। এবার সেই বিষয়েই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে ফেলল দেশের সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যদি APAAR ID প্রকল্পকে সরকার স্বেচ্ছাসেবী বলে দাবি করে, তাহলে অভিভাবকদের প্রকৃত অর্থে এতে অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার স্বাধীনতাও থাকতে হবে।
কী এই APAAR ID?
APAAR ID হল শিক্ষা মন্ত্রকের একটি ডিজিটাল উদ্যোগ যার মূল উদ্দেশ্য হল ওয়ান নেশন ওয়ান স্টুডেন্ট আইডি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এই ডিজিটাল আইডির মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীর পরীক্ষার ফলাফল থেকে শুরু করে মার্কশিট, সার্টিফিকেট, শিক্ষাগত সাফল্য এবং অন্যান্য একাডেমিক নথি একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষিত থাকে। ভবিষ্যতে স্কুল থেকে কলেজ, কিংবা উচ্চশিক্ষায় ভর্তি, সব ক্ষেত্রেই এই তথ্য ব্যবহার করা সহজ হবে বলেই সরকারের দাবি।
কিন্তু বেশ কয়েকজন অভিভাবক আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ করেন যে, বাস্তবে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে APAAR ID কার্ড বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। অথচ সরকার এটিকে স্বেচ্ছাসেবী প্রকল্প বলেই প্রচার করছে। আবেদনকারীদের আরও দাবি, এই আইডি আধারের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার কারণে শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য এবং গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে, কোনও পৃথক আইন ছাড়াই প্রশাসনিক নির্দেশের মাধ্যমে এই প্রকল্প চালু করা ঠিক কতটা যুক্তিযুক্ত?
আরও পড়ুন: হাইরোডে বন্ধ টোটো-অটো চলাচল, জেলা শাসকের কাছে গেল নোটিশ
এর আগে ওড়িশা হাইকোর্ট গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়ে জানিয়েছিল যে, APAAR ID যদি স্বেচ্ছাসেবী হয় তাহলে সম্মতিপত্রে না বলার বা অপট আউট করার সুযোগ দিতে হবে। এমনকি কোনও ছাত্র বা ছাত্রী APAAR ID না করালে তার পড়াশোনা, পরীক্ষা বা অন্য কোনও শিক্ষাগত সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। তবে সম্প্রতি এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ওড়িশা হাইকোর্টের নির্দেশগুলি সারাদেশে কার্যকর করার বিষয়ে সিবিএসসি বোর্ডকে পরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। আর আদালত আরও জানিয়েছে, যেহেতু সরকার ওড়িশা হাইকোর্টের নির্দেশের বিরোধিতা করেনি তাই সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় স্তরে প্রয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।