সৌভিক মুখার্জী, বারুইপুর: বারুইপুর কাণ্ডে উস্কানিমূলক মন্তব্য দেওয়ার জেরে সিপিআইএম নেতা লাহেক আলিকে (Lahek Ali) গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। তবে রক্ষাকবচের আর্জি জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সিপিএমের এই নেতা। এবার সেই মামলা খারিজ করে দিলেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। এমনকি তাঁর মামলায় কোনওরকম হস্তক্ষেপি করলেন না তিনি।
হাইকোর্টে ধাক্কা লাহেক আলির
কলকাতা হাইকোর্টে এদিন লাহেক আলির আইনজীবী অভিষেক হালদার জানিয়েছিলেন যে, নানারকম চাপের কারণে গোষ্ঠীর তকমায় বারুইপুর কাণ্ডে কমরেড লাহেক আলিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই বিষয়টি আদালত বিবেচনা করুক, এবং তাঁকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হোক। কিন্তু এই কথা শুনে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান যে, মামলার অন্যতম আবেদন পুলিশের গ্রেফতার থেকেই রক্ষাকবচ। গ্রেফতারের পর এই সমস্ত মামলার শুনানি একেবারে গুরুত্বহীন। নির্দিষ্ট জায়গা থেকেই মামলাকারীকে আবেদন করতে হবে।
প্রসঙ্গত, বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকা ধর্ষন এবং খুনের ঘটনায় গোটা রাজ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি সেখানে বিক্ষোভ, অবরোধ এবং হিংসার ঘটনা ঘটে। তবে সেখানেই এই সিপিএমের নেতা উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিলেন বলে খবর। তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ এবং অশান্তিতে উস্কানি দেওয়া, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকা, এমনকি গণবিটুনিতে ইন্ধন যোগানোর মতো অভিযোগ ছিল। তাছাড়া বেআইনি জমায়েত এবং দাঙ্গা বাঁধানোর মতো ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই কারণেই গত ১২ জুলাই রাতে পুলিশ তাঁকে তাঁর নিজ বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে।
আরও পড়ুন: মুর্শিদাবাদের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় স্বজনহারাদের পাশে মুখ্যমন্ত্রী, করলেন আর্থিক সাহায্য ঘোষণা
তবে গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁকে ৮ দিন পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়। আর শেষে মঙ্গলবার ফের তাঁকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছিল। এমনকি তদন্তের জন্য তাঁকে আরও ৬ দিন হেফাজতে রাখতে চায় পুলিশ। যদিও পরে তা ৩ দিনে নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আজ রক্ষাকবচের আর্জি জানালে বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই দাবি সম্পূর্ণ গুরুত্বহীন।