রাজ্যে আবার চালু হবে মর্নিং স্কুল? বড় ইঙ্গিত সরকারের

অনন্যা সরকার, জলপাইগুড়ি: রাজ্যে আবারও চালু হতে পারে ‘মর্নিং স্কুল’ (Morning School)। বর্তমানে দেশে চলছে জনগণনার (Census) প্রক্রিয়া। আর সেই কাজে নিযুক্ত রয়েছেন বহু প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এদিকে তাদের নিয়মিত স্কুলেও উপস্থিত থাকতে হবে পড়ুয়াদের পড়াশোনার জন্য। কীভাবে দুই কাজের ভারসাম্য রক্ষা হবে, তাই নিয়ে সম্প্রতি প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক মহলের একাংশ। তাঁদের কথা বিবেচনা করেই এবার স্কুলের সময়ের (School Timing) পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। এর পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগ নিয়ম বড় ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী। 

স্কুলের সময় এগিয়ে আনা হবে?

রাজ্যে এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন শিক্ষকদের ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে নিযুক্ত করা হয়েছিল, যার ফলে সেসময় স্কুলে পড়ুয়াদের পঠনপাঠন ব্যাহত হয়। এখন আবার জনগণনার কাজেও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের যুক্ত করা হয়েছে। তাই স্কুলে সকালে ক্লাস চালু করার প্রস্তাব দিচ্ছেন শিক্ষকদের একাংশ। এবিষয়ে শিক্ষকদের প্রস্তাবে রাজিও হয়েছেন স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মন। ফলে আবারও রাজ্যে মর্নিং স্কুল চালু হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বেসরকারি স্কুলে চলবে বিশেষ অভিযান, বড় পদক্ষেপ শুভেন্দুর সরকারের

সকালে স্কুল চালু করার প্রস্তাবটি এসেছে  শিক্ষকদের কাছ থেকেই। স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানান, জনগণনার কাজের চাপে যাতে স্কুল পড়ুয়াদের পড়াশোনায় কোনও সমস্যার সৃষ্টি না হয় ও পঠনপাঠনে কোনো ছেদ না পড়ে, তার জন্য কিছু শিক্ষক-শিক্ষিকা নিজেরাই সকালে ক্লাস করানোর বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছেন। এতে তাঁর সায় রয়েছে বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী। জলপাইগুড়িতে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (ABRSM)-এর ১১তম জেলা সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, জনগণনার কাজ ও স্কুলের পঠন পাঠন এর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা বিবেচনা করে দেখবে সরকার।

দীপক বর্মনের কথায়, জনগণনার কাজ করা ও স্কুলে পড়ুয়াদের পড়ানো – দুটি কাজ একসঙ্গে সামলানো যথেষ্ট দায়িত্বের ব্যাপার। সকালে যদি স্কুল করানো হয়, তাহলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য দায়িত্বগুলি একসাথে সামলানো কিছুটা সহজ হবে। সকালে স্কুল সেরে, তারা অনায়াসে জনগণনার কাজ করতে পারবেন। যার ফলে দুই কাজের মধ্যেই সমন্বয়সাধন করা সম্ভব হবে। এর পাশাপাশি স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী জানান, রাজ্যে বর্তমানে শিক্ষকের যে ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণ করার জন্য প্রতি বছর যেমন পুজো হয়, তেমনই এখন থেকে প্রতি বছর শিক্ষক নিয়োগও হবে।

আরও পড়ুন: প্রাথমিক স্কুল মিশে যাবে হাইস্কুলে? বড় প্ল্যান রাজ্য সরকারের

এর পাশাপাশি, মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার জন্য পড়ুয়াদের উপস্থিতির হারের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। ফেস বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে (Face Biometric Attendance System) স্কুলগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি নেওয়া শুরু করার পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। ফলে উপস্থিতির রেকর্ড যথাযথভাবে ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় সংরক্ষিত হবে। যেসমস্ত পড়ুয়ার উপস্থিতির হার পর্যাপ্ত থাকবে না, তাদের মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না বলেও সাফ জানান স্কুল শিক্ষা মন্ত্রী।

Leave a Comment