সৌভিক মুখার্জী, তারাপীঠ: রাজ্যে সরকারের পরিবর্তন হয়েছে। তারপর থেকেই তীর্থস্থানগুলিকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বিজেপি সরকারের তরফ থেকে। এবছর শ্রাবণী মেলায় একেবারে ঢেলে সাজানো হয়েছে তারকেশ্বরকে। নবনির্বাচিত বিধায়ক সন্ত পানের কথা মতো ভক্তদের উপর হেলিকপ্টারের মাধ্যমে করা হচ্ছে পুষ্পবৃষ্টি। এবার সেই একই ধারা অবলম্বন করা হবে বীরভূমের তারাপীঠ মন্দিরে (Tarapith)। জানা গিয়েছে, কৌশিকী অমাবস্যাকে আরও জাঁকজমকপূর্ণভাবে সাজিয়ে তোলার জন্য এবার এই মন্দিরেও পুষ্পবৃষ্টির আয়োজন করছেন এলাকার বিধায়ক।
তারাপীঠ মন্দিরে এবার পুষ্পবৃষ্টি
কৌশিকী অমাবস্যার দিন এমনিতেই জাঁকজমকপূর্ণভাবে পূজা হয় তারাপীঠে । দেশ দেশান্তর থেকে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয় এদিন। এই দিনটিকে আরও বিশেষ করে তোলার জন্যই পুষ্পবৃষ্টির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এমনকি তারাপীঠের নতুন সেবা শিবিরের উদ্বোধন করতে যেতে পারেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলতে গেলে এখনও প্রায় দেড় মাস বাকি কৌশিকী অমাবস্যার। তবে তার আগেই তারাপীঠ এবং রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের কার্যালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিধায়ক থেকে শুরু করে কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মন্ডল, তারাপীঠ মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় সহ আরও অনেকে।
আগামী ১০ সেপ্টেম্বর কৌশিকী অমাবস্যা। প্রতিবারের মতো এবারেও ভক্তদের ঢল নামবে বলেই আশাবাদী মন্দির কমিটি। এমনকি এই অমাবস্যা উপলক্ষে ইতিমধ্যেই মন্দির চত্বর জুড়ে শুরু হয়েছে তোড়জোড়। বিশেষ এই দিনটিতে লক্ষ লক্ষ ভক্তদেরকে সুস্বাগতম জানাতেই এবার হেলিকপ্টারে করে পুষ্পবৃষ্টির আয়োজন করছে পুজো কমিটি। এ বিষয়ে প্রশাসনিক স্তর থেকে শুরু করে উক্ত বৈঠকে আলোচনা হয়। এমনকি ভক্তদের নির্বিঘ্নে পুজো দেওয়ার ব্যবস্থা থেকে শুরু করে, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে জোরদার এবং পানীয় জলের বন্দোবস্তের মতো বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: শিলিগুড়ি থেকে পাহাড় যাত্রায় মিলবে বড় স্বস্তি, দুই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের দায়িত্ব নিল পূর্ত দফতর,
এ বিষয়ে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মন্ডল জানান, “তারাপীঠ মন্দিরের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থ এবং কৌশিকী অমাবস্যাকে নতুন সরকারের উদ্যোগে আরও আকর্ষণীয়ভাবে আয়োজন করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ভক্তদের স্বাগতম জানাতে হেলিকপ্টারে করে পুষ্পবৃষ্টির মতো পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।” কিন্তু এ বিষয়ে রামপুরহাটের বিধায়ক ধ্রুব সাহা জানান, “বিষয়টি এখনও পর্যন্ত প্রস্তাবের স্তরেই রয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।”