সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: শহরের যানজট, কিংবা গ্রামের সরু রাস্তায় অনেক সময় চার চাকার অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত রোগীদের কাছে পৌঁছতে পারে না। সেই কারণে প্রাণ যায় অনেক রোগীর। তবে সেই সমস্যা সমাধান করতে এবার বিরাট পদক্ষেপের কথা জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। মোটরসাইকেল ভিত্তিক অ্যাম্বুলেন্স (Motorcycle Ambulance) পরিষেবাকে আরও কার্যকর করার জন্য নতুন নিয়ম আনার প্রস্তুতি শুরু করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রক। সেই লক্ষ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় মোটরযান বিধি ১৯৮৯-এ সংশোধনের জন্য একটি খসড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
চালু হচ্ছে দুই চাকার অ্যাম্বুলেন্স
আসলে দেশের বহু শহরে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং সংকীর্ণ অলিগলিতে বড় অ্যাম্বুলেন্স ঢোকা সম্ভব হয় না। এরকম পরিস্থিতিতে মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত রোগীদের কাছে পৌঁছে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারবে। সরকারের মতে, নতুন নিয়ম এই পরিষেবাকে আরও নিরাপদ করে তুলবে। তবে খসড়া প্রস্তাবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল
- দুই চাকার অ্যাম্বুলেন্সের ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রতি দুই বছর অন্তর রিনিউ করতে হবে।
- ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে ব্যবহৃত এমার্জেন্সি লাইটকে নতুন নিরাপত্তার মান পূরণ করতে হবে।
- ১ অক্টোবর ২০১৭ বা তার পরে তৈরি হওয়া এল২ ক্যাটাগরির সমস্ত দুই চাকার অ্যাম্বুলেন্সের নতুন প্রযুক্তিগত এবং নিরাপত্তার মান কার্যকর করতে হবে।
- এই ধরনের অ্যাম্বুলেন্স শুধুমাত্র রাজ্য সরকার নির্ধারিত এলাকায় চলাচলের জন্যই ব্যবহার করতে পারবে।
আরও পড়ুন: ২৫০ কোটি বিনিয়োগ, থাইল্যান্ডের সংস্থার সাথে মিশে কলকাতায় খুলছে ই-স্কুটার কারখানা
ফিটনেস পরীক্ষায় কী কী দেখা হবে?
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ফিটনেস পরীক্ষার সময় এবার মোট আটটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। সেগুলি হল—
- রোগী বহনের ইউনিট কিংবা সাইড ইউনিট সঠিকভাবে সংযুক্ত রয়েছে কিনা তা দেখা হবে।
- টায়ার এবং রিম নিরাপদ রয়েছে কিনা তা দেখা হবে।
- ইমারজেন্সি ফ্লাশার ঠিকঠাক ভাবে কাজ করছে কিনা তা দেখতে হবে।
- স্ট্রেচার মজবুত রয়েছে কিনা তাও দেখা হবে।
- স্ট্রেচারের লকিং ব্যবস্থা কার্যকর কিনা তা দেখা হবে।
- রোগীর সেফটি বেল্ট ব্যবহার করা যায় কিনা তা দেখা হবে।
- রোগী ওঠানো কিংবা নামানোর ব্যবস্থা ঠিকঠাকভাবে কাজ করছে কিনা তা দেখা হবে।
- অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র কার্যকর রয়েছে কিনা তাও দেখা হবে।
যদিও এটি এখনও শুধুমাত্র খসড়া বিজ্ঞপ্তি হিসেবে জারি করা হয়েছে। নিয়মগুলি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। সরকার আপাতত সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে মতামত সংগ্রহ করছে। তারপরেই তা কার্যকর হবে।