সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিবাহ বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকার কারণে এবার হুগলির চুঁচুড়া পৌরসভায় (Hooghly Chinsurah Municipality) লাগানো হল অভিনব পোস্টার। যারা নিমন্ত্রণ পেয়েও ওই অনুষ্ঠানে যায়নি তাদের উদ্দেশ্যে ওই পোস্টারে জানানো হয়েছে, প্রত্যেক পরিবারকে অন্তত ৫০০ টাকা করে দিয়ে বাড়িতে গিয়ে আশীর্বাদ করতে হবে। এই পোস্টার ছড়িয়ে পড়তেই গোটা এলাকা থেকে শুরু করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে হাসির খোরাক।
চুঁচুড়া পৌরসভায় অভিনব পোস্টার
আসলে পৌরসভার এক কর্মী নিজের বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে পৌরসভার অন্যান্য কর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয়দের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। ওই নিমন্ত্রণ পত্রে অনুষ্ঠান ছিল ২৯ জুলাই। কিন্তু শুক্রবার সকালে পৌরসভার বিভিন্ন জায়গায় তিনি একটি পোস্টার লাগান। আর সেখানে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে, “আমন্ত্রণ জানিয়েও অনেকেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়নি। এতে আমাকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে। আমার বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে আমার বাড়িতে এসে আমাদেরকে আশীর্বাদ করার জন্যই আমি নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। এমনকি উক্ত উদ্দেশ্যে আমি সামান্য খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থাও করেছিলাম।”
নোটিশে আরও উল্লেখ করা, “নিমন্ত্রণ জানানো সত্ত্বেও অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমার উল্লেখিত অনুষ্ঠানে আপনারা অংশগ্রহণ না করে আমাকে অনেক অনেক কষ্টের মধ্যে ফেলেছেন। এই কারণে আপনাদের সবাইকে ৫০০ টাকা, প্রত্যেক পরিবারকে ফাইন দিতে হবে। এমনকি পরবর্তী সময়ে এই বিষয়ে জানিয়ে বাড়িতে গিয়ে আশীর্বাদ পর্ব অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে।” অর্থাৎ তাঁর কথা অনুযায়ী, যে সমস্ত ব্যক্তিরা বিবাহ বার্ষিকী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়নি, তাদের পরিবার কিছু ৫০০ টাকা করে ফাইন দিয়ে তারপর তাদেরকে আশীর্বাদ করতে হবে।
আরও পড়ুন: “আজ থেকেই ১০০০ টাকা বেড়ে…” এদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
তবে এই পোস্টার সামনে আসতেই শুরু হয়েছে বিভিন্ন রকম আলোচনা। আমন্ত্রিত অনেককে বলতে শোনা যায়, যাওয়া উচিত ছিল অবশ্যই। কিন্তু অনুষ্ঠানের আগে এমন কিছু পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যার কারণে যাওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু এভাবেই ফাইন দিতে হবে তা কেউ জানত! এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই অনেকে মজা করে বলছেন, “আলেকজান্ডার সেলুকাসকে বলেছিল, হে সেলুকাস কি বিচিত্র এই দেশ! কথাটা একেবারে অদম্য সত্যি।”