প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: তোলাবাজি চেয়ে এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন বিজেপি নেতা অতনু চট্টোপাধ্যায় (Atanu Chatterjee) সহ আরও কয়েকজন। BLRO কে হুমকি এবং অফিসে ডিম ছোড়ার অপরাধে কড়া অ্যাকশন নিল পুলিশ প্রশাসন। জানা গিয়েছে, পাথরের ট্রাক ছাড়ার দাবিতে গতকাল, বীরভূমে (Birbhum) ময়ূরেশ্বর ১ ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরে বিএলআরও দীপঙ্কর দাস সহ অন্য কর্মীদের আটকে ডিম ছোড়া হয়েছিল শুধু তাই নয় তোলাবাজির হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। এবার সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ময়দানে নামল পুলিশ।
ঠিক কী ঘটেছিল?
শো-কজ নোটিশ প্রদান এবং দল থেকে বরখাস্তের মতো একাধিক কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা সত্ত্বেও রাজ্যে বিজেপি নেতা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির একের পর এক অভিযোগ উঠেই চলেছে। আর এবার বীরভূমে সেই অভিযোগ উঠে এল। প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, মঙ্গলবার দুপুরে ময়ূরেশ্বর ১ ব্লকের ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরে বিএলআরও-সহ অন্য কর্মীদের আটকে রাখে বিজেপি কর্মীর একাংশ। এমনকি দফতরের কর্মীদের উপরে বিজেপির ওই কর্মীরা ডিম ছোড়ে বলেও অভিযোগ। আসলে BLRO দীপঙ্কর দাসকে বিজেপি নেতা অতনু চ্যাটার্জি তাঁর কয়েকটি পাথরের ট্রাক ছাড়ার দাবি জানান। কিন্তু ভূমি দফতর থেকে বলা হয় অতিরিক্ত জেলাশাসকের কাছে এ নিয়ে আবেদন জানাতে। আর তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে এই ঘটনা ঘটান তিনি।
গ্রেপ্তার অতনু চট্টোপাধ্যায়
ভূমি সংস্কার দফতরের কর্মীরা মল্লারপুর থানায় খবর দিলে সঙ্গে সঙ্গে বিজেপি কর্মীরা বেরিয়ে যান। কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বিজেপি নেতা অতনু চট্টোপাধ্যায়, শ্যামল বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ আরও কয়েকজন বিজেপি কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। কঠিন শাস্তির দাবি করে অভিযোগকারীরা। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তোলাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কথা বলে আসছে দলীয় নেতৃত্ব। বর্তমান বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও দলীয় নেতা দিলীপ ঘোষ সহ শীর্ষ নেতৃত্ব বারেবারেই দলীয় কর্মীদের এই ধরনের বেআইনি কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকার জন্য প্রকাশ্যে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কিন্তু তারপরেও এই ঘটনা ঘটায় শাসকদলের অন্দরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাজ্যে ১৭,৭১৪ পদে নিয়োগ! বড় ঘোষণা PSC-র
পূর্বে প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজির অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারির ঘটনাও ঘটেছে। যার জেরে জেল খাটতে হচ্ছে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক থেকে শুরু করে নেতা মন্ত্রীদের। তবে শুধু যে তৃণমূলকেই এই অপরাধের শাস্তি পোহাতে হচ্ছে তা নয়, বিজেপি কর্মীদের জন্যেও সমান ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তোলাবাজির অভিযোগে প্রায় ২৫০ জন বিজেপি কর্মী-নেতাকে শো-কজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং ২২ জনকে দল থেকে বরখাস্তও করা হয়েছে।