জল কাদার মধ্যে থেকে উঠে এল মহামূল্যবান ৫০ লাখি হীরে, খুলল সাত শ্রমিকের ভাগ্য

অনন্যা সরকার, মধ্যপ্রদেশ: এই ভারতীয় শহর কখন কার ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দেবে তা আগে থেকে বলা কঠিন। না মুম্বাই বা দিল্লির মতো বড় শহরের কথা বলছি না। এটি হল মধ্যপ্রদেশের ঐতিহাসিক শহর পান্না। কী আছে পান্নায়? আর পাঁচটা ভারতীয় শহরে যা থাকার তাই আছে তবে এখানে আরো একটি জিনিস আছে যা ভারতের আর কোথাও নেই। পান্নাতেই অবস্থিত দেশের একমাত্র বাণিজ্যিকভাবে সক্রিয় হীরের খনি (Diamond Mine )। ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকলে এই হীরের শহরে কপাল খুলে যেতে পারে অনেকেরই। যেমন এবার সরকোহা গ্রামের সাতজন শ্রমিকের কপাল ফিরেছে। দিনমজুরি করে সংসারের ভরণপোষণ করা শ্রমিকরা তাদের ক্ষেতের খনিতে একটি মহামূল্যবান ১৭.৯৬ ক্যারেটের হীরা খুঁজে পেয়েছেন। আর এই একটি হীরেই নিমেষে বদলে দিয়েছে তাঁদের ভাগ্য। 

মুহূর্তে পাল্টে গেল সাত শ্রমিকের ভাগ্য

সরকোহা গ্রামের একটি হীরের খনিতে কর্মরত সাতজন শ্রমিক একটি বিরল ১৭.৯৬ ক্যারেটের রত্ন-গুণসম্পন্ন হীরা আবিষ্কার করছেন। জানা গেছে, ইজারাদার অখিলেশ পাল বৃষ্টির সময় খনিটি পরিদর্শন করছিলেন, তখনই কাদার মধ্যে হীরাটিকে চকচক করতে দেখেন। হীরে আবিষ্কারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শ্রমিকেরা আনন্দে উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। বিশেষজ্ঞদের থেকে জানা গেছে যে, উদ্ধার হওয়া এই হীরেটির আনুমানিক মূল্য ৫০ লক্ষ টাকারও বেশি হবে। সরকারি নিলামে উঠলে এর প্রকৃত মূল্য নির্ধারিত হবে। নিয়ম অনুযায়ী, নিলাম থেকে পাওয়া অর্থ থেকে রয়্যালটি বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট টাকা শ্রমিক ও বাকি অংশীদারদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: ফেলতে হবে জলে, মমতার আমলের সমস্ত OBC সার্টিফিকেট বাতিল করল কলকাতা হাইকোর্ট

জানা গেছে, খনিটিতে ওই সাতজন অংশীদার একসঙ্গে কাজ করতেন। তাই, হীরের নিলাম থেকে যে অর্থ পাওয়া যাবে, তা তাদের সকলের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হবে। শ্রমিকরা জানান যে, এই সাফল্য কোনো একজন ব্যক্তির পরিশ্রমের ফল নয়, বরং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এটা সম্ভব হয়েছে। ওই হীরে খুঁজে পাওয়ার পর শ্রমিকরা তাদের ভবিষ্যত পরিকল্পনা শুরু করেছেন। কেউ কেউ একটি স্থায়ী বাড়ি তৈরির স্বপ্ন দেখছেন, তো কেউ তাদের সন্তানদের আরও ভালো শিক্ষাদানের আশা করছেন। বছরের পর বছর ধরে অভাব অনটনের মধ্যে বেঁচে থাকা এই মানুষগুলোর চোখে এখন ভালোভাবে জীবন কাটানোর স্বপ্ন জ্বলজ্বল করছে। 

আরও পড়ুন: করা যাবে রিচার্জ, টাচ করলেই পেমেন্ট, প্লাস্টিকের পর বাজারে আসবে স্মার্ট নোট!

প্রসঙ্গত, খুঁজে পাওয়া হীরেটি সরকারি হীরা দপ্তরে ইতিমধ্যেই জমা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাজকর্ম সম্পন্ন হলে, এটিকে নিলামে তোলা হবে। নিলামে পাওয়া টাকা থেকে  নির্ধারিত রয়্যালটি কেটে নিয়ে বাকি টাকা সরাসরি ওই শ্রমিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। পান্নায় এর আগেও বহুবার হীরা খুঁজে পাওয়া গেছে। এখন আবার এক ভাগ্য পরিবর্তনকারী উজ্জ্বল পাথর সাতটি পরিবারের মনে আশার আলো জাগালো।

Leave a Comment