বাড়িতে দুটির বেশি LPG সিলিন্ডার? হয়ে যান সাবধান, নেওয়া হতে পারে কড়া আইনি ব্যবস্থা

অনন্যা সরকার, কলকাতা: বর্তমানে দেশের বহু জায়গায় এলপিজি সিলিন্ডারের (LPG Cylinder) ঘাটতি সুস্পষ্ট। ইতিমধ্যেই ২৫ দিন অন্তর বুকিং এবং সরবরাহে অনিয়ম সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে গ্যাস ঘাটতি নিয়ে আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে, কিছু মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সিলিন্ডার মজুত করতে শুরু করেছেন, যা এলপিজি-এর কালোবাজারি এবং মজুতদারি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। এই পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকটি রাজ্যে এলপিজি সিলিন্ডার মজুদ করে রাখার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিয়ম না মানলে করা হচ্ছে এফআইআর (FIR)। 

দুয়ের অধিক এলপিজি সিলিন্ডার বাড়িতে রাখলে হবে কড়া সাজা

সম্প্রতি ওড়িশায় একটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৮,২০৮টি এলপিজি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই অভিযানের ফলস্বরূপ ৪৬ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয় এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের (Essential Commodities Act, 1955) অধীনে ৪৯২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন: ২ বছর চাকরি করেই এবার কর্মীরা পেতে পারেন প্রোমোশন, নতুন নিয়ম জারি রেলের

এখনও অনেক এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারকারীই জানেন না যে, বাড়িতে নির্ধারিত সংখ্যার চেয়ে বেশি এলপিজি সিলিন্ডার রাখা গুরুতর নিয়ম লঙ্ঘনের শামিল। ১৯৫৫ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন অনুযায়ী, সাধারণত গার্হস্থ্য বা ডোমেস্টিক গ্রাহকদের সর্বাধিক দুটি ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার রাখার অনুমতি রয়েছে। এর মধ্যেই একটি ব্যবহারের জন্য এবং অন্যটি ব্যাকআপ হিসাবে রাখার জন্য। যদি কারও বাড়িতে এই সংখ্যার চেয়ে বেশি ভর্তি সিলিন্ডার পাওয়া যায়, তবে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সিলিন্ডার মজুত করে রাখার অভিযোগ এনে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। 

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গের কিছু অঞ্চলে ১৫ আগস্ট পালিত হয় না স্বাধীনতা দিবস! কারণ জানেন?

দুটির বেশি সিলিন্ডার বাড়িতে থাকলে কী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে?

যদি, আপনার বাড়িতে দু’টির বেশি এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়, তাহলে এলপিজি সরবরাহকারী সংস্থা সেগুলি পরিদর্শন করতে পারেন। আর যদি প্রমাণিত হয় যে আপনি নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন, তাহলে অতিরিক্ত সিলিন্ডারগুলি বাজেয়াপ্ত করা পাশাপাশি আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। দায়ের করা হতে পারে এফআইআর-ও। ভারতে এলপিজি দেশের জনগণের জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ, তাই এলপিজি সিলিন্ডারের যেকোনো ধরনের কালোবাজারি, মজুতদারি বা অবৈধভাবে সংরক্ষণ করলে ১৯৫৫ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

Leave a Comment