জন্ম ও মৃত্যুর রেজিস্ট্রেশনের নিয়মে আরও কড়াকড়ি, সময় পার করলেই সমস্যা

অনন্যা সরকার, কলকাতা: বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে জন্ম ও মৃত্যুর শংসাপত্রকে আর কেবল নথি বলা যায় না, বরং আইনি পরিচয় ও বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার জন্য এগুলি অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। ২০২৩ সালের সংশোধনের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, ড্রাইভিং লাইসেন্স তৈরিতে, ভোটার তালিকায়, আধার কার্ড বানাতে, বিয়ের রেজিস্ট্রেশনে এবং সরকারি নিয়োগে জন্মতারিখ ও জন্মস্থানের প্রমাণ হিসেবে এই সার্টিফিকেটগুলি ব্যবহার করার বিধান দেওয়া হয়েছে। আর এখন ২০২৬ সালের নতুন সংশোধনীতে দেরিতে জন্ম ও মৃত্যুর রেজিস্ট্রেশনের (Birth and Death Registration) নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। জন্ম বা মৃত্যুর কত দিনের মধ্যে রেজিস্টার করতে হবে? এবং দেরি হলে কী করণীয় – আসুন বিশদে জেনে নেওয়া যাক। 

কতদিনের মধ্যে জন্ম বা মৃত্যু নিবন্ধন করতে হয়? 

ভারতীয় আইন অনুসারে, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক এবং তা ২১ দিনের মধ্যেই সম্পন্ন করার বিধান রয়েছে। তাই এদেশের যেকোনো ব্যক্তির জন্ম ও মৃত্যুর ২১ দিনের মধ্যে পরিবারগুলিকে স্থানীয় রেজিস্ট্রারকে এবিষয়ে অবহিত করার চেষ্টা করতে হবে। সাধারণত ২১ দিনের সময়সীমার মধ্যে জানালে কোনও লেট ফি দিতে হয় না। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনে এই ২১ দিনের সাধারণ সময়সীমা বাতিল করা হয়নি। 

আরও পড়ুন: পেনশন বৃদ্ধির দাবিতে ১৭ আগস্ট থেকে দেশজুড়ে আন্দোলন, চাপে পড়বে সরকার

তবে, ২১ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলে রেজিস্ট্রারের কাছ থেকে বার্থ বা ডেথ সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে না, এমনটা নয়। ২১ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর যদি ৩০ দিনের মধ্যে তথ্য জানানো হয়, তাহলে নির্ধারিত লেট ফি দিতে হবে। তাই পরিবারের সদস্যদের ২১ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত নয়, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রেজিস্ট্রারকে জানালে সার্টিফিকেট পেতে সুবিধা হয়।

২০২৩ সালের সংশোধনী অনুযায়ী, ৩০ দিনের বেশি কিন্তু ১ বছরের মধ্যে জন্ম বা মৃত্যুর তথ্য জানানো হলে ডিস্ট্রিক্ট রেজিস্ট্রার বা মনোনীত কর্মকর্তার কাছ থেকে লিখিত অনুমতির প্রয়োজন হয়। এর সাথে একটি নির্ধারিত লেট ফি এবং অ্যাটেস্টেড ডকুমেন্ট জমা দিতে হয়। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের নতুন সংশোধনীতে এই ১ বছরের সময়সীমার নিয়মগুলি একই রাখা হয়েছে। বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে ১ বছরের বেশি বিলম্বের ক্ষেত্রে।  

আরও পড়ুন: রাজ্যে চালু ‘কৃষি সখী’ প্রকল্প, মহিলাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ, কী সুবিধা মিলবে জানুন

২০২৬ সালের সংশোধনী আইনের বিধান অনুযায়ী, জন্ম ও মৃত্যু সম্পর্কিত তথ্য ১ বছর পর কিন্তু ২ বছরের মধ্যে জমা দেওয়ার জন্য এখন থেকে শুধু জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (DM), মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেট (SDM), অথবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছেই যেতে হবে। ওই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জন্ম বা মৃত্যুর তথ্যের সত্যতা যাচাই করবেন। শুধুমাত্র তখনই নির্ধারিত ফি দেওয়ার পর রেজিস্ট্রেশন মঞ্জুর করা হবে। অর্থাৎ, যদি বিলম্ব এক বছরের বেশি হয় তবে বিষয়টি রেজিস্ট্রারের কাছে মেটানো যাবে না, জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দ্বারস্থ হতে হবে। 

তবে, ২০২৬ সালের আইনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বদলটি করা হয়েছে দু’বছরের বেশি সময়ের পর জন্ম ও মৃত্যুর রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে। এই ক্ষেত্রে, শুধুমাত্র একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার আদেশ আর যথেষ্ট হবে না। নিবন্ধনের জন্য এক্তিয়ারভুক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফার্স্ট ক্লাসের (JMFC) আদেশ প্রয়োজন হবে। জন্ম বা মৃত্যু সম্পর্কিত তথ্যের সত্যতা যাচাইও জেএমএফসি করবেন। শুধুমাত্র এর পরেই, নির্ধারিত ফি প্রদান করে রেজিস্টার করা যাবে। এই আইন কড়াকড়ি আনার অন্যতম উদ্দেশ্য হল বিলম্বিত রেজিস্ট্রেশনের দরুন হওয়া ভুয়ো ও ভুল রেকর্ডের সম্ভাবনা কমানো এবং সরকারি জন্ম ও মৃত্যুর পরিসংখ্যানের নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা।

Leave a Comment