অনন্যা সরকার, কলকাতা: জনগণনার (Census) কাজে শিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ে রাজ্য সরকার ও শিক্ষক মহলের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন চলছে। জনগণনার কাজে নিয়োজিত শিক্ষকদের স্কুল যেতে হবে কিনা এবং যদি তারা না যান তাহলে তাদের ছুটি কাটা যাবে, নাকি এই দায়িত্বকে ‘অন ডিউটি’ (On Duty) হিসেবে গণ্য করা হবে এই নিয়ে বিতর্ক চলছে। শিক্ষকদের একাংশ দাবি করেন, স্কুল শিক্ষা দফতরের নির্দেশ মেনে স্কুলের সময়ের পর বা ছুটির দিনগুলিতে সেনসাসের কাজ করতে বলা অমানবিক এবং ১৯৪৮ সালের জনগণনা আইনেরও বিরোধিতা করে। তাই এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য মঙ্গলবার শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মনের সাথে সাক্ষাৎ করেন। ‘অন ডিউটি’ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন বলেই জানান তিনি।
শিক্ষামন্ত্রীর অন ডিউটি দেওয়ার আশ্বাস
স্কুল শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারী এদিন জানান একাধিক বিষয়ে স্কুল শিক্ষামন্ত্রীর সাথে তার কথা হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি এবং অনেকদিন ধরেই যা নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে তা হল জনগণনার ডিউটি চলাকালীন শিক্ষকদের অন ডিউটি স্ট্যাটাস না দেওয়া নিয়ে। তবে মঙ্গলবারের আলোচনায় স্কুল শিক্ষামন্ত্রী জনগণনায় অংশগ্রহণ করা শিক্ষকদের অন ডিউটি দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন বলে জানান কিঙ্কর অধিকারী। যদি এখনও এবিষয়ে আনুষ্ঠানিকভবে কোনো নির্দেশিকা জারি করেনি স্কুল শিক্ষা দফতর।
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য যথেষ্ট হচ্ছে না বরাদ্দ টাকা! আরও ১২,০০০ কোটি বাড়ানোর কথা মুখ্যমন্ত্রীর মুখে
শিক্ষক মহলের একাংশ দাবি করেছেন যে, ১৯৪৮ সালের জনগণনা আইন অনুযায়ী যেসব শিক্ষকরা জনগণনার কাজে যুক্ত থাকবেন, তাদের অন ডিউটি দেওয়া হবে। অর্থাৎ জনগণনার কাজ করাকালীন স্কুলে উপস্থিত না হতে পারলে তাদের ছুটি কাটা যাবে না অন্যান্য সুযোগ সুবিধা পেতেও অসুবিধা হবে না। এই কাজটিকে তাদের দায়িত্ব হিসেবেই গণ্য করা হবে। কিন্তু শিক্ষকরা অভিযোগ করছেন যে, স্কুল শিক্ষা দফতর তাদের নির্দেশ দিয়েছে স্কুলের সময়ের পর (সাধারণত ১০ টা থেকে ৪ টা) এবং ছুটির দিনগুলিতে সেনসাসের কাজ করতে বাড়ি বাড়ি যেতে হবে। এতেই ঘোরতর আপত্তি তোলেন বহু শিক্ষক। তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ জানান।
যদিও সোমবার স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ বলেছিলেন যে, এ রাজ্যের স্কুল শিক্ষকরা যথেষ্ট দক্ষ। তাই স্কুলের কাজ এবং জনগণনার কাজ দুটোই তাঁরা সমানতালে সামলাতে পারবেন। তবে মঙ্গলবার শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারীকে তিনি যেসমস্ত শিক্ষকরা এনুমারেটরএবং সুপারভাইজারের কাজে নিযুক্ত থাকবেন তাদের অন ডিউটি স্ট্যাটাস দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: কলকাতার হোটেলে ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ড, শিশু সহ ৯ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা
এদিকে, জনগণনার কাজে শুধুই শিক্ষকদের নিয়োগ করা নিয়ে মামলা করা হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। মঙ্গলবার তারই শুনানিতে রাজ্যের দিকে একাধিক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। তিনি বলেন যেখানে শিক্ষার অধিকার আইনের ওপর এত জোর দেওয়া হচ্ছে, সেখানে জনগণনার কাজে শিক্ষকদের নিয়োগ করার দরকার কী? বিধানসভার কর্মীদের নিয়োগ করা হোক। এই টানাপোড়েনের মধ্যে স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয় কিনা, সেটাই এখন দেখার।