সহেলি মিত্র, কলকাতা: রেশন ব্যবস্থায় (Rationing) বদল হয়েই চলেছে, আর এবার রেশন তুলতে গিয়ে এবার বিপাকে পড়তে হল প্রবীণদের। কয়েক দিন আগে অবধি যেখানে কাছে মোবাইল ফোন থাকলেই রেশন দোকান থেকে সামগ্রী নেওয়া যেত, পাসওয়ার্ড বা ওটিপি দেখিয়েই মিলত রেশন। এখন সেই ব্যবস্থায় আমূল বদল এসেছে। রেশন ব্যবস্থায় কারচুপি বন্ধ করতে এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় সরকার থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার রেশন সামগ্রী নিতে গ্রাহকের আধার-সংযুক্ত বায়োমেট্রিক যাচাই বাধ্যতামূলক করেছে। আঙুলের ছাপ অথবা চোখের মণি স্ক্যান করে পরিচয় যাচাইয়ের পরেই মিলবে রেশন। যদিও নতুন এই ব্যবস্থার আওতায় কাজ করতে গিয়ে মহা বিপাকে পড়েছেন প্রবীণরা।
রেশন তুলতে গিয়ে বিপাকে প্রবীণরা
এমনিতেই বয়স বাড়ার সঙ্গে অনেক প্রবীণদের চোখের দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায়, আঙুলের ছাপ অস্পষ্ট হয়ে যায়। এদিকে এর ফলেই এখন রেশন দোকানের যন্ত্রে বায়োমেট্রিক যাচাইয়ে সমস্যা হচ্ছে। আধার আপডেট করার পরেও অনেকের তথ্য মিলছে না, এমনকি চোখের মণি স্ক্যানেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে রেশন তুলতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন তাঁরা।
আরও পড়ুনঃ সহজে ইসকন দর্শন, হলদিয়া থেকে মায়াপুর এসি বাস পরিষেবা শুরু, জানুন রুট ও সময়সূচি
এই বিষয়ে একজন বলেছেন, “কয়েক দিন আগে রেশন আনতে গিয়ে জানতে পারি, আঙুলের ছাপ বা চোখের মণি না মিললে রেশন দেওয়া হবে না। অনেকবার চেষ্টা করেও আঙুলের ছাপ মেলাতে পারিনি। রেশন ডিলার আধার কার্ড আপডেট করাতে বলেন। সেই মতো দৌড়াদৌড়ি করে আধার আপডেট করিয়েছি। তার পরেও রেশন দোকানে ছাপ মিলছে না। এত দিন ফোন সঙ্গে নিয়ে গেলেই রেশন পেতাম। এখন নতুন করে সমস্যায় পড়েছি।”
কী বলছে খাদ্য দফতর?
সম্প্রতি খাদ্য ও সরবরাহ দফতর আধার-ভিত্তিক বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের মাধ্যমে রেশন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু যাঁদের বায়োমেট্রিক মিলছে না, তাঁদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা কী—তা নিয়ে এখনও স্পষ্টতা নেই। প্রবীণ উপভোক্তাদের অভিযোগ, আগে ফোন সঙ্গে নিয়ে রেশন পাওয়া গেলেও এখন বায়োমেট্রিক সমস্যার কারণে বার বার দোকানে যেতে হচ্ছে। জেলা খাদ্য দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, উপরমহলের নির্দেশ অনুযায়ীই কাজ করছেন। তবে বায়োমেট্রিক না মেলায় রেশন না তুলতে পারলে পরে তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।