বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: চার বছর, ছোটাছুটি করে বেড়ানোর বয়স। সেই বয়সকে পুঁজি করেই মনের ভেতরে থাকা অনুভূতিগুলিকে বাস্তবের সাথে মিলিয়ে আস্ত একটা বই লিখে ফেলেছিল ভুবনেশ্বরের অন্বি বিশাল আগরওয়াল (Anvi Vishesh Agrawal)। এই খুদের বয়স এখন মাত্র 6 বছর। আর এই নামমাত্র বয়সেই লেখালেখির জন্য একেবারে জোড়া গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড জিতে নিয়েছে সে (World Record Winner)। মূলত দুই ভাষায় বই প্রকাশ করা এবং টেডএক্সে কথা বলা অর্থাৎ এই দুই ক্ষেত্রেই বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ মহিলা হয়েছে অন্বি। গড়েছে বিরল নজির।
বই লিখেই স্বপ্নের সিঁড়িতে পা দেওয়া শুরু অন্বির
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেল, ভুবনেশ্বরের এই ছোট্ট মেয়েটির হাতে লেখা প্রথম বই লিটল গার্ল, বিগ ইমোশনস। মূলত ইংরেজি এবং স্প্যানিশ ভাষায় লেখা বইটি একেবারে অল্প সময়ের মধ্যে পাঠকদের মনে জায়গা করে নিয়েছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, বইটি যখন লেখা হয়েছিল তখন অন্বির বয়স মাত্র 4 বছর 254 দিন। শুধু বই লেখাই নয় বরং বইতে থাকা ছবিও নিজেই এঁকেছিল অন্বি। এত অল্প বয়সে নিজের অনুভূতিগুলোকে অনেকটা ভারী লাগতো তাঁর। সেই সূত্রেই ছোটদের আবেগ বোঝানোর জন্য তার নিজের বই প্রকাশ করে সে।
ভুবনেশ্বরের এই মেয়ের বক্তব্য, প্রত্যেকের অনুভূতি আছে। সেটা থাকাই স্বাভাবিক। ছোটদের সেই অনুমতি নিয়ে কথা বলার জায়গাটুকু দেওয়া উচিত। এসব নিয়েই অন্বি নিজের বই প্রকাশ করার পরেই প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ওই বইয়ের 1167টির বেশি কপি বিক্রি হয়ে গিয়েছিল। কিনে নিয়েছিলেন অন্বির মতোই আর পাঁচটা খুদের বাবা মায়েরা। এভাবেই ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা লাভ করতে থাকে ওই বইটি। একটা সময় ভারতের বিভিন্ন বইয়ের দোকানে জায়গা পায় অন্বির বই। সে নিজেও বিভিন্ন বইয়ের দোকানে গিয়ে ক্রেতাদের ক্রয় করা তাঁর বইয়ে স্বাক্ষর পর্ব শুরু করে।
View this post on Instagram
আরও পড়ুন: গাড়ি থামিয়ে দেদার তোলাবাজি, সার্জেন্ট সহ দুই পুলিশকর্মীকে সাসপেন্ড করল লালবাজার
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, প্রথমত এত অল্প বয়সে বই লিখে তা আলাদা আলাদা দুটি ভাষায় প্রকাশ করার জন্য বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ মহিলা লেখিকা হিসেবে প্রথম বড় রেকর্ড গড়ার প্রায় এক বছর পর ক্রিয়েটিভিটি ইজ আ সুপারপাওয়ার এর বিষয়ে সকলের সামনে বক্তৃতা রাখে ওই খুদে। যা মুগ্ধ করে দিয়েছিল শ্রোতাদের। আর তারপরেই বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ মহিলা টেডএক্স বক্তার খেতাব অর্জন করে অন্বি। সবমিলিয়ে, মাত্র 6 বছর বয়সেই প্রায় সাফল্যের দুনিয়া দেখা হয়ে গিয়েছে এই খুদের। বলে রাখি, সম্প্রতি লন্ডনে গিনেসের সদর দপ্তরে গিয়েছিল সে। সেখানেই 2027 সালের গিনেস সংস্করণের নানান ঝলক দেখার পাশাপাশি একটা দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে এসেছে ভারতের অন্বি।