প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম হল সাপ (snakes)। এই প্রাণীদের বিষ এতটাই ভয়ংকর যে মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তার উপর সেই সাপ যদি হয় বিষাক্ত শঙ্খচূড়, চন্দ্রবোড়া বা গোখরো হয় তাহলে জীবনের আশা ছেড়েই দিতে হবে। কিন্তু জানেন ভারতে এমন একটি গ্রাম (Snakes Village) আছে যেখানে সব জায়গায় রীতিমত কিলবিল করছে সাপ? শুনলে অবাক হবেন বিষধর কেউটে সাপ ঘুরে বেড়ায় মানুষের শোবার ঘর, রান্নাঘর, এমনকি স্কুলের ক্লাসরুমেও। তাহলে চলুন সম্পূর্ণটা জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।
কোন গ্রামকে সর্পগ্রাম বলা হয়?
সাপ এতটাই ভয়ংকর প্রাণী যে নাম শুনলেই যেখানে সাধারণ মানুষের শিরদাঁড়া দিয়ে হিমেল স্রোত বয়ে যায়, সেখানে নাকি এই গ্রামে সাপ সকলের পরিবারের সদস্য, সাপেদের সঙ্গে মানুষের এই অদ্ভুত সহাবস্থান সত্যিই অবাক করে। আর এই গ্রামটি অবস্থিত মহারাষ্ট্রে, নাম শ্বেতফল গ্রাম। মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলার কারমালা তালুকের এই অদ্ভুত গ্রাম বিশ্বজুড়ে ‘সাপের গ্রাম’ নামে পরিচিত। ২০১১ জনশুমারি অনুযায়ী, এই গ্রামে মোট ৫১৭ পরিবারের বাস। জনসংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। সেখানে কেউই একে অপরকে ভয় পায় না এমনকি অত্যন্ত বিষধর সাপও স্বাধীন ভাবে গৃহস্থের বাড়িতে ঘুরে বেড়ায়।
বাড়ির আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ায় সাপ
জানা গিয়েছে, পুণে থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামটি। প্রায় ১,৭০০ হেক্টর এলাকা জুড়ে রয়েছে গ্রামটি। শুষ্ক জলবায়ুর কারণে নানা প্রজাতির সাপেদের বসবাসের আদর্শ জায়গা হয়ে উঠেছে শ্বেতফল। নাগপঞ্চমীতে ভারতের অনেক অংশে আলাদা করে উৎসব হলেও, এখানে সাপের পুজো নিত্যদিন করা হয়। বলা হয়, সাপ এলাকার বাড়ি গুলিতে ঢুকে পড়লেও বাড়ির পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে, কেউ কাউকে ভয় না। উল্টে এখানকার প্রতিটি বাড়ির ছাদে বা কাঠের কাঠামোয় সাপের থাকার জন্য একটি নির্দিষ্ট ফাঁপা জায়গা তৈরি করা হয়, যাকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘দেবস্থানম’।
আরও পড়ুন: ভারতীয় পাসপোর্টের রং ভিন্ন রকমের হয় কেন? জানুন বিস্তারিত
বিষধর কেউটে সাপগুলো কোনও খাঁচায় বন্দী থাকে না; তারা ইচ্ছেমতো এই দেবস্থানমে এসে বিশ্রাম নেয়, ঘুরে বেড়ায় এবং গ্রামবাসীদের দেওয়া খাবার খায়। এমনকি এখানকার শিশুরাও সাপের সঙ্গে অত্যন্ত সাবলীলভাবে খেলাধুলো করে বড় হয়। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হল ওই গ্রামে আজ পর্যন্ত কেউ সাপের কারণে মারা যায়নি। গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং নাগ দেবতার প্রতি গভীর ভক্তির কারণেই সাপেরা এখানে শান্ত থাকে।