আবাসে বাড়ি পেতে ঘর ছেড়ে ঝুপড়িতে বাস, অন্নপূর্ণার ৩০০০-র জন্য সেনসাসে ভুল তথ্য!

অনন্যা সরকার, কলকাতা: চলতি মাসেও অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা না পাওয়া নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভের ছবি দেখা গেছে। এখন আবার জনগণনার (Census 2027) তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়েও মানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ছেন গণনাকর্মীরা। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে যে, একাধিক জায়গায় তথ্য যাচাই করতে গিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এনুমারেটররা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সরকারি সুবিধা হারানোর ভয়ে মানুষ তাদের পরিবার ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রকাশ করতে দ্বিধাবোধ করছেন। সরকারি নথিতে পারিবারিক বিবরণ লিপিবদ্ধ করলে ভবিষ্যতে সরকারি প্রকল্প পেতে অসুবিধা হতে পারে, এমন আশঙ্কা অনেকের মধ্যে কাজ করছে।

সরকারি প্রকল্প বন্ধের আশঙ্কায় জনগণনার তথ্য গোপন

২০২৭ সালের জনগণনার জন্য তথ্য সংগ্রহ করার সময় প্রায়ই এধরনের জটিলতা দেখা দিচ্ছে। এই যেমন, পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায় এক বাসিন্দার বাড়ির সামনে গাড়ি দেখে সেই তথ্য নথিভুক্ত করতে ঝামেলায় পড়েন গণনাকর্মীরা। ওই বাড়ির বাসিন্দারা দাবি করেন গাড়িটি তাদের নয়। অন্যদিকে, আবার ‘আবাস যোজনা’-র বাড়ি পাওয়ার লোভে বীরভূমের সিউড়ির এক পরিবার মতলব এঁটেছিল। অভিযোগ উঠেছে, আবাস যোজনার বাড়ি পাওয়ার আশায় মিথ্যে ঝগড়া করে এক বৃদ্ধা বাড়ি ত্যাগ করার নাটক করে একটি ঝুপড়িতে গিয়ে থাকতে শুরু করেন। 

এই সমস্ত কারণে ফিল্ডে নেমে তথ্য সংগ্রহের সময় মানুষ যদি তথ্য গোপন করেন, তবে এনুমারেটররা কী করবেন – এই প্রশ্ন এখন খুবই প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। প্রশাসন স্বীকার করেছে যে, বাস্তবে প্রতিটি তথ্যের সত্যতা যাচাই করার কোনো সুযোগ নেই। তথ্য সংগ্রহকারীদের যে তথ্য দেওয়া হবে, সেটাই লিপিবদ্ধ করতে হবে।

আরও পড়ুন: বিরিয়ানিতে এসব কী! আসানসোলে খাদ্য সুরক্ষা বিভাগের অভিযানে ধরা পড়ল চঞ্চল্যকর দৃশ্য

এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP)-এ কোনও সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া নেই। যেহেতু বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হয়, তাই এই প্রক্রিয়াটি অনিবার্যভাবেই মানুষের আবেগের ও মনোভাব দ্বারা প্রভাবিত হয়। গণনাকারীরা বলছেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে এখন তাদের বারংবার হচ্ছে যে, এই তথ্য সংগ্রহের সাথে সরকারি সুবিধার কোনও সম্পর্ক নেই। তাও বিভিন্ন জায়গায় গণনাকর্মীদের ওপর অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন অনেকে। 

এদিকে, ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য সেনসাসের ডেটাবেসে নথিভুক্ত করা হলে ভবিষ্যতে দেশের জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির প্রকৃত রূপটা জানা সম্ভব হবে না। কিন্ত এরকম পরিস্থিতিতে নির্ভুল জনগণনার রিপোর্ট তৈরি হিমশিম খাচ্ছেন তথ্য সংগ্রহকারী দল।

Leave a Comment