অনন্যা সরকার, নয়াদিল্লি: মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের (Supreme court) তরফে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জেলা আদালত বা নিম্ন আদালতের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের (District Judicial Officer) অবসর নেওয়ার বয়স (Retirement Age) ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৬২ বছর করার বিষয়টি বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। শীর্ষ আদালত উল্লেখ করেছে যে, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা সাধারণ সরকারি কর্মচারীদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত দেরিতে বিচার বিভাগে যোগদান করেন। তাই, তাঁদের অবসরের বয়স বাড়ালে রাজ্যগুলির ওপর থেকে সেই অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা নামবে, যেটাকে কারণ বানিয়ে এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করা হয়।
নিম্ন আদালতের বিচারপতিদের অবসরের বয়স বাড়ানোর প্রস্তাব
ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও ভি. মোহনার সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের অবসরের বয়স বাড়াতে দ্বিধাগ্রস্ত রাজ্যগুলির অ্যাডভোকেট জেনারেলদের এসই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের রাজি করানোর জন্য চেষ্টা করার নির্দেশ দিয়েছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে কিছু রাজ্য বাকি সরকারি কর্মচারীদের মতোই বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের অবসরের বয়স ৫৮ বা ৬০ বছর নির্ধারণ করার প্রস্তাব দিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতিদের বেঞ্চ এই যুক্তি গ্রহণ করেনি। আদালত জানান যে, বিচার বিভাগে যোগদানের সময় বিচারপতিদের বয়স অনেকটাই বেশি হয়। সুতরাং, তাঁদের ৬২ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরি করার অনুমতি দিলে রাজ্যগুলির ওপর কোনও অস্বাভাবিক আর্থিক বোঝা চাপবে না।
আরও পড়ুন: টোল প্লাজায় লক্ষ লক্ষ টাকা দুর্নীতির অভিযোগ, কলকাতা সহ ১৪ জায়গায় ইডির অভিযান
এই সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময়, উত্তরাখণ্ড ও উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলি বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের অবসরের বয়স বাড়ানোর প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আর্থিক অসুবিধা রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে। নাগাল্যান্ডের তরফে জানানো হয়েছে যে, সে রাজ্যে সরকারি কর্মচারীদের অবসরের বয়স ৫৮ বছর। তাই, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য এই সীমা বাড়ালে প্রশাসনিক ও আর্থিক অসুবিধা তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন: সামনের মাসেই যুবশক্তি প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপ শুরু! এই নথিগুলো রেডি আছে তো?
যদিও, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা ও মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলি জেলা আদালতের বিচারপতিদের অবসরের বয়স বাড়ানোর প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে। তাই বর্তমানে রাজ্যগুলির ভিন্ন ভিন্ন মতামত লক্ষ্য করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের বেঞ্চ সকলকে এই বিষয়ে একটি ইতিবাচক অবস্থানে আসার অনুরোধ করেছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।