সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আগস্ট মাসের ১৭ তারিখ থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা দেওয়া শুরু করেছিল রাজ্য সরকার। সে মাসে পেয়েছিলেন ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলা। বাদ গিয়েছিল বহু মহিলার আবেদন। নবান্নের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, তাঁদের বেশিরভাগের আধার কার্ডের সঙ্গে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যের গরমিলের কারণেই আবেদন বাতিল করা হয়েছে। এদিকে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১৭ তারিখ থেকেই অন্নপূর্ণার টাকা দেওয়া হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন। বিশেষ করে নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষেই এই সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের। তবে তার আগেই ফের বাতিল হল ১৭ লক্ষ মহিলার আবেদন।
অন্নপূর্ণা যোজনায় ফের বাতিল ১৭ লক্ষ মহিলার আবেদন
অনলাইন এবং অফলাইন, দু’ভাবেই রাজ্য সরকার অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদন গ্রহণ করেছে। তবে যেহেতু বিগত সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রচুর দুর্নীতির পরিসংখ্যান সামনে আসে, তাই পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফ থেকে অন্নপূর্ণার প্রত্যেকটি আবেদন পুনরায় যাচাই করা হয়। এমনকি ভেরিফিকেশন করেই বিগত মাসে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। তবে সেপ্টেম্বরের টাকা অ্যাকাউন্টে পাওয়ার আগেই বাদ গিয়েছে ১৭ লক্ষ মহিলার আবেদন। এমনটাই জানাচ্ছে রাজ্য সরকার। এমনকি তাঁদের মধ্যে ১০ লক্ষ আবেদনের ক্ষেত্রে রয়েছে পরিচয়পত্র ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যের গরমিল।
নবান্নের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে পরিচয়পত্রে থাকা নামের বানান, জন্ম তারিখ বা ঠিকানার সঙ্গে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যের মিল নেই। পাশাপাশি অনেক মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে ডিবিটি লিংক নেই। যার কারণে এই প্রকল্পের টাকা ট্রান্সফার করা সম্ভব হচ্ছে না। আবেদন করার সময় ভুল তথ্য প্রদান করার জন্যই বাদ গিয়েছে এই সমস্ত মহিলার নাম। তবে চিন্তার কারণ নেই। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে সোশ্যাল রেজিস্ট্রির অফিসিয়াল পোর্টাল আবারও খুলে দেওয়া হবে বলে একটি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। সেখান থেকে নতুন করে ফের আবেদন করা যাবে।
আরও পড়ুন: বাড়িতে বসেই চেক করুন বার্ধক্য, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার স্ট্যাটাস, রইল প্রসেস
তবে হ্যাঁ, যদি আপনার আবেদনের স্ট্যাটাস বর্তমানে আন্ডার প্রসেস থাকে, তাহলে কিছু করার দরকার নেই। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে যাচাই সম্পন্ন হলেই আবেদন অনুমোদিত হবে এবং অ্যাকাউন্টে ঢুকবে ৩০০০ টাকা। তবে যাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সমস্যা রয়েছে তাঁরা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখায় গিয়ে অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার লিঙ্ক এবং ডিবিটি লিংক সম্পন্ন করুন। তাছাড়া নথিপত্রে নামের বানান বা তথ্যের গরমিল থাকলে সংশ্লিষ্ট পোর্টাল পুনরায় খুললে যাচাই করে আপডেট করা যেতেও পারে। তবে এর জন্য অবশ্যই সোশ্যাল রেজিস্ট্রির পোর্টালে গিয়ে নিজের আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করতে ভুলবেন না।