সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আরও বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায় (Sumit Roy)। তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৫ কোটি টাকা জমা হয়েছে বলেই সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। এমনকি শুধুমাত্র জুন মাসেই নাকি ৭১ লক্ষ টাকা জমা পড়েছে বলে দাবি। জমি দুর্নীতি মামলার সূত্রে এই টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে বলেই মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এমনকি এই টাকার অংক আরও বাড়তে পারে বলেই অনুমান।
সুমিত রায়ের অ্যাকাউন্টে ১৫ কোটি টাকা
এ বছর নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর অভিষেকের সাথে তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বিরুদ্ধেও ওঠে একাধিক অভিযোগ। এর মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য হল শালবনিতে জমি দুর্নীতি এবং ডেবরায় টাকার বিনিময়ে চাকরি দেওয়ার অভিযোগ। চাকরি দুর্নীতি মামলায় আপাতত রক্ষাকবচ পেলেও জমি দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্ট তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সুমিত। মামলা চলছিল সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে।
বুধবার রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আদালতে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। সেখানে তিনি জানিয়েছেন, জমি দুর্নীতির সূত্রে সুমিতের অ্যাকাউন্টে অন্তত ১৫ কোটি টাকা জমা পড়েছে। এমনকি শুধু জুন মাসেই সুমিতের অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে ৭১ লক্ষ টাকা। তবে এই টাকার উৎস কী, তা এখনও পর্যন্ত আঁচ করতে পারেননি তদন্তকারী আধিকারিকরা। এমনকি তাঁদের দাবি, সুমিত রায়কে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। যদিও রাজ্য সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, তদন্তে সহযোগিতা করছেন না অভিষেকের আপ্তসহায়ক।
আরও পড়ুন: মিলবে ২৫ কোটি টাকা পর্যন্ত সহজ ঋণ, মহিলাদের দারুণ উপহার SBI-র
এদিকে বিগত শুনানির দিন সুমিতকে জিজ্ঞাসাবাদের লিখিত রেকর্ড দেখতে চেয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই মতোই বুধবার আদালতে রাজ্য সরকার সেই ভিডিওর লিখিত রেকর্ড জমা করেছে। তবে তুষার মেহতার দাবি, একাধিক প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন সুমিত রায়। তাঁর বয়ান অস্পষ্ট। আগামীকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার ফের এই মামলাটি উঠবে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে। তবে এই ১৫ কোটি টাকার লেনদেন ঠিক কোন সূত্রে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।