গতি পাবে গঙ্গাসাগর ও সুন্দরবনের পর্যটন, বেহালা বিমানবন্দরের জন্য জমির সার্ভে শুরু

অনন্যা সরকার, কলকাতা: দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বেহালা বিমানবন্দরকে (Behala Airport) পুনরায় কর্মক্ষম করার লক্ষ্যে তৎপর হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এই বিমানবন্দরটি থেকে বিমান চলাচল আবার শুরু করার সম্ভাবনা যাচাই করার জন্য সরেজমিনে সমীক্ষা চালানো হচ্ছে। বুধবার বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক ও রাজ্যের ক্রীড়া মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ রাজ্য সরকারের কর্মকর্তা ও এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (AAI)-র প্রতিনিধিদের একটি দলের সাথে বিমানবন্দরটির সরেজমিন সমীক্ষায় অংশ নেন। 

বেহালা বিমানবন্দর পুনরুজ্জীবনের প্রচেষ্টা

কয়েকদিন আগেই বিমানবন্দরটিকে আবার সচল করে তোলার জন্য কেন্দ্রের সহযোগিতা চেয়ে নয়া দিল্লিতে কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রাম মোহন নাইডুর সঙ্গে ইন্দ্রনীল খাঁ সাক্ষাত করেন। তারপরেই এই উদ্যোগটি নেওয়া হল। রাজ্যের ক্রীড়া মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পক্ষ থেকে একটি চিঠি রাম মোহন নাইডুর কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এই চিঠিতে বেহালা থেকে বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়।

ইন্দ্রনীল খাঁ বুধবার সমাজ মাধ্যমের একটি পোস্টে লেখেন, “বেহালা বিমানবন্দর চালু করার প্রক্রিয়ায় একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে সরেজমিনে জমির সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। বিমান পরিষেবা চালু হলে দক্ষিণ কলকাতার কৌশলগত অবস্থানে থাকা এই বিমানবন্দরটি পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-উন্নয়ন ও পুনরুজ্জীবনের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী অনুঘটকের কাজ করবে। এর ফলে গঙ্গাসাগর ও সুন্দরবনের পর্যটনও বিশেষ গতি পাবে।”

আরও পড়ুন: ইন্টারনেট পেতে পাহাড় চূড়ায় পড়াশোনা, NEET-এ সফল দুই বোন হবেন ডাক্তার

আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে এবং কলকাতা ও সংলগ্ন দক্ষিণ ২৪ পরগনার শিল্প ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপে সহায়তা করার ক্ষেত্রে বিমানবন্দরটির গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে আসছে বর্তমান রাজ্য সরকার। সরকারের প্রস্তাবনায় বিমানবন্দরটি আঞ্চলিক যাত্রী পরিষেবা, জরুরি চিকিৎসার কাজে ব্যবহৃত বিমান পরিষেবা বা এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এবং চার্টার্ড ফ্লাইট চলাচলের জন্য ব্যবহার করা শুরু করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বেহালা বিমানবন্দরের রানওয়ে প্রায় ৯১৫ মিটার দীর্ঘ ও রাজ্য সরকার এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ও চার্টার্ড সার্ভিসের পাশাপাশি এটিআর-৭২ (ATR-72) আঞ্চলিক বিমান পরিচালনা করা সম্ভব কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি ইন্দ্রনীল খাঁ জানিয়েছেন যে, একটি ড্রোন সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, কলকাতা ব্লকের অধীনে গোপালপুর, বেহালা এবং পোরুই এই তিনটি মৌজা জুড়ে বিমানবন্দরটির মালিকানাধীন রয়েছে প্রায় ২১৫.৬ একর জমি।

আরও পড়ুন: দিতেই হবে এই তথ্য, স্কুলগুলির জন্য নয়া বিজ্ঞপ্তি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের

বর্তমানে রাজ্য সরকার শহরের প্রধান বিমানবন্দর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরেও বিমান যোগাযোগ শক্তিশালী করতে উদ্যোগী হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে অব্যবহৃত হয়ে পড়ে থাকা বেহালা বিমানবন্দরটি আগে সাধারণ বিমান চলাচল এবং প্রশিক্ষণ-সম্পর্কিত কাজে ব্যবহৃত হত। রাজ্যের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, বর্তমানে যে সমীক্ষাগুলি চালানো হচ্ছে, সেগুলি বিমানবন্দরটি বিদ্যমান পরিকাঠামো মূল্যায়ন করতে এবং এখান থেকে ফ্লাইট পরিচালনা পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা নির্ধারণ করতে সহায়তা করবে। 

Leave a Comment