বছরে ২৫০ কোটি ক্ষতি! শীঘ্রই ৩৭টি গ্রামে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ করতে চলেছে ECL

অনন্যা সরকার, আর খনি এলাকায় বিনামূল্যে বিদ্যুৎ পরিষেবা দিতে চাইছে না ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ECL)। কয়লা খনি জাতীয়করণের পর থেকেই ইসিএল কর্তৃপক্ষ খনি সংলগ্ন গ্রামগুলিতে নিখরচায় বিদ্যুৎ (Free Electricity) পরিষেবা দিয়ে আসছে। তবে এবার বিনামূল্যে এই পরিষেবা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থা। ইসিএল-এর তরফে দাবি করা হয়েছে যে, বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে গিয়ে কোম্পানি বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেকে ব্যবসায়ী বিনামূল্যে বিদ্যুতের সুযোগ নিয়ে গ্রামগুলোতে গ্রিল কারখানা, আইসক্রিম কারখানার মতো বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসা চালাচ্ছে। এর ফলে ইসিএল-এর বছরে ২৫০ কোটি টাকা করে লোকসান হচ্ছে। এই পরিমাণ ক্ষতি সামলানো সংস্থার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না বলেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত বলে জানাচ্ছে ইসিএল। 

বিপুল ক্ষতির মুখে ECL 

দীর্ঘদিন ধরে ইসিএল ৪২টি গ্রামে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করত। প্রথম ধাপে ৫টি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। পরে আরও ৩৭টি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসিএল কর্তৃপক্ষ। রাজ্য সরকারের সংস্থাগুলো এখন থেকে ওই সমস্ত গ্রামে বিদ্যুৎ পরিষেবা দিতে শুরু করবে বলে শোনা যাচ্ছে। পরিষেবা চালু হওয়ার পর ইসিএল তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেবে।

অর্থাৎ এটা স্পষ্ট যে, এখন থেকে খনি অঞ্চলের বসবাসকারী মানুষকে বিদ্যুতের জন্য টাকা খরচ হবে। এর পাশাপাশি, ইসিএল জানিয়েছে যে কোয়ার্টারগুলোকে দখলমুক্ত করার জন্য একটি উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হবে। খনি এলাকা জুড়ে ইসিএল-এর প্রায় ৬৩ হাজারটি কোয়ার্টার রয়েছে। এর মধ্যে মাত্র ১৮ হাজার কোয়ার্টারে ইসিএল-এর কর্মীরা থাকেন। বাকিগুলোতে কোনও কর্মী নেই। এগুলোর মধ্যে অনেকগুলোরই জরাজীর্ণ অবস্থা, সেগুলোতে উচ্ছেদের নোটিশ পাঠিয়েছে সংস্থা। পর্যায়ক্রমে সমস্ত অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে।  

আরও পড়ুন: আচমকাই চিরতরে স্কুল বন্ধের নোটিশ হুগলির কুন্তিঘাটে! শুনেই তুমুল বিক্ষোভ অভিভাবকদের

ইসিএল-এর চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডাইরেক্টর সতীশ ঝাঁ জানিয়েছেন যে, এমনিতে বিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়া ইসিএল-এর কাজ নয়। এমনকি এই বিদ্যুৎ কখনও কোনও দুর্যোগ ঘটলে তার দায়িত্ব কে নেবে বলে প্রশ্ন করেন তিনি। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, ইসিএল-এর নিজস্ব কলোনি এবং কয়লাখনিগুলি ছাড়া, যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়, সেই এলাকাগুলি থেকে বছরে ২৫০ কোটি টাকার লোকসান হচ্ছে সংস্থার। এই বিদ্যুৎ ব্যবহার করে অসাধু ব্যবসায়ীরা আইসক্রিম কারখানা, গ্রিল কারখানা চালাচ্ছেন। এর পাশাপাশি সতীশ ঝাঁ এও জানান যে, ইসিএল-এর অনেক কোয়ার্টারের অবস্থা বিপজ্জনক। নোটিশ দিয়ে সেগুলো ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। নাহলে যেকোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আর যারা অবৈধভাবে কোয়ার্টার দখল করে রেখেছেন, তাদেরও উচ্ছেদ করা হবে।

আরও পড়ুন: অসুস্থ মাকে দেখার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাননি চিন্ময় কৃষ্ণ, অবশেষে প্রয়াত সন্ধ্যারানী দেবী

তবে, ইসিএল-এর এই সিদ্ধান্তে একেবারেই খুশি নয় শ্রমিক সংগঠনগুলো। সিটু (CITU)-এর অনুমোদনপ্রাপ্ত কোলিয়ারি মজদুর সভার সভাপতি জিকে শ্রীবাস্তব জানান যে, খনির ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বসবাসকারী মানুষদের বিনামূল্যে জল ও বিদ্যুৎ পরিষেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল কারণ খনি তৈরি হলে পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষজন বহু সমস্যার সম্মুখীন হন। ইসিএল এখন সেই দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারে না। তাঁরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন। যেসব অসাধু ব্যবসায়ী এই অঞ্চলে বিদ্যুৎ চুরি করে কারখানা চালাচ্ছে, ইসিএল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক, কিন্তু সকল মানুষকে এভাবে বঞ্চিত করা উচিত নয়। তিনি এও বলেন যে, যখন খনিগুলি তৈরি করা হয়, তখন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজনকে সেখানে আনা হয়েছিল বসতি স্থাপনের জন্য। আজ যদি শুধু ইসিএল-এর নিজস্ব এলাকায় থাকার কারণে তাদের উচ্ছেদ করা হয়, তাহলে তা অত্যন্ত অমানবিক কাজ হবে।

Leave a Comment