সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এক সময় মমতার অন্যতম প্রিয় সঙ্গী মদন মিত্র (Madan Mitra) এখন কালীঘাট শিবির ছেড়ে ঋতব্রত তৃণমূলে। বিধানসভায় সই জালিয়াতি কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পরপরই দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে যায় তৃণমূল। প্রথমে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করা হলেও পাল্লা ভারের জেরে নতুন তৃণমূলের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় হন অপজিশন অফ লিডার। তবে এবার তৃণমূল ভাঙার পেছনে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে দায়ী করে বসলেন মদন মিত্র। বিরোধী দলনেতা হওয়ার জন্যই নাকি সই জাল করেছেন শোভনদেব, এমনটাই দাবি কামারহাটির বিধায়কের।
শোভনদেবকে কাঠগড়ায় তুললেন মদন মিত্র
বিধানসভার সই জালিয়াতি কাণ্ড প্রথমে প্রকাশ্যে আনেন বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। যে কারণে তাঁদেরকে বহিষ্কার করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে নির্বাচনে ভরাডুবির পর দলনেত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কেই বিরোধী দলনেতার আসনে বসান। তবে ঋতব্রতদের তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করার পরপরই তাঁরা নিজেদের বিরোধী দাবি করে ৬০-র বেশি বিধায়কের সমর্থনে তৈরি করে ফেলেন নতুন তৃণমূল। এমনকি বর্তমানে নির্বাচনে লড়ার ক্ষেত্রে প্রতীক নিয়ে চলছে দুই তৃণমূলের দড়ি টানাটানি। আর এরই মধ্যে শোভনদেবকে তুলোধোনা করলেন মদন মিত্র।
এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে মদন বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তো আমি নমস্কার জানাব। শ্রদ্ধা জানাব। শুধু চোখের জল ফেলে এটুকুই বলব, কেন সহ্য করলেন আপনি? এই ইমেজ সততার প্রতীক। আপনার ঘরে, তোমারে মারিবে যে, গোকূলে বাড়িল সে। কেন সহ্য করলেন? কী হল বলুন তো তৃণমূলটা? আরে আমার বাড়ির পাশে এখানেই থাকেন। একজন বয়স্ক ভদ্রলোক। জীবনে সব পেয়েছেন। ৭২ সালে বার্লিন গিয়েছিলেন। তিনি বিরোধী দলনেতা হবে বলে সমস্ত বৃদ্ধ লোকগুলিকে দাঁড় করিয়ে সমস্ত সই জাল করে নিলেন। এত হ্যাংলা আর কী চাই? এখন তো মাংস খেতে পারবেন না।”
আরও পড়ুন: রাজ্যের ২৫২টি অবৈধ মাদ্রাসা বন্ধ করল সরকার, শোকজের তালিকায় আরও ১০০
মদন আরও বলেন, “তদন্ত কমিশন বসুক না। আপনি তো বারবার তৃণমূলে সুযোগ পেয়েছেন। শুধুমাত্র মাতৃমন্ত্র আর চণ্ডীপাঠ পড়ে কেউ দলের নমিনেশন পেয়েছে, এমনটা পৃথিবীর ইতিহাসে নেই। অবশ্যই তাঁর নাম শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। উনি আমাকে বলেছিলেন যে আমি সার্কাসের ক্লাউন। একচুয়ালি আমি ওনাকে বলেছিলাম আপনি তো বড় ক্লাউন। আপনার থেকেই তো শিখেছি। আজকে আমাদের পার্টি ভাঙত না। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, শুধুমাত্র শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে পোষ্য হিসেবে বিরোধী দলনেতা করার জন্য মিথ্যা বললেন যে সবাই সই করে দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাধ্য। উনি কারাগারে বন্দী। শাহজাহান বন্দী করেছেন।”