বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ইতিমধ্যেই যুদ্ধ (Russia-Ukraine War) থামাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের (Vladimir Putin) সাথে আলোচনায় বসতে রাজি হয়ে গিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকার মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া G20 সম্মেলনের মাঝে পুতিনের সাথে সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে বৈঠক করতে চান। এবার সেই একই পথ ধরে এগিয়ে এলেন রুশ প্রেসিডেন্টও। আর এই ঘটনায় মধ্যস্থতা করল ভারত এবং চিন। রাশিয়ার তরফে জানানো হল, ইউক্রেন সমস্যার সমাধানের স্বার্থে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সব রকম সাহায্যে আশ্বাস দিয়েছেন।
দুই বন্ধু দেশের প্রস্তাবে রাজি পুতিন!
ব্রিকস সম্মেলনের 45 পৃষ্ঠার যৌথ ঘোষণাপত্রে আলাদা করে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধের উল্লেখ না থাকলেও যুদ্ধবিরোধী বার্তা রয়েছে। কূটনীতিবিদদের মতে, ভারত এবং রাশিয়ার মধ্যকার সুসম্পর্ককে মাথায় রেখেই এই ধরনের কৌশলী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা তাস জানিয়েছে, নয়া দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে আলাদাভাবে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যেকার সংঘাত থামানো নিয়ে আলোচনা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, পুতিন এবং জিনপিংয়ের।
ওই সংবাদ সংস্থার দাবি, যে কোনও প্রকারে ইউক্রেন সমস্যার সমাধান করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চিনের প্রেসিডেন্টের প্রস্তাবে সম্মতি জানিয়েছেন পুতিন। দুই বন্ধু দেশের তরফে বলা হয়েছিল, সমস্যার সমাধানের জন্য সব রকম সহযোগিতা করবে ভারত এবং চিন। আর সেই প্রস্তাবকেই স্বাগত জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। এখানেই শেষ নয়, এদিন প্রস্তাবে সম্মতি জানানোর সাথে সাথে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের যুদ্ধ সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ভারত এবং চিনের হাতে তুলে দিয়েছেন পুতিন। এ থেকে বোঝাই যাচ্ছে, দুই বন্ধুর কথায় ইউক্রেনের সাথে যুদ্ধ থামাতে একপ্রকার বাধ্যই হচ্ছেন পুতিন!
আরও পড়ুন: ১৫ বছরে সচিনের রেকর্ড নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন বৈভব, ভাঙার পথে আরেক কীর্তি
উল্লেখ্য, এর আগে বারবার ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে ময়দানে নেমেছিল ভারত। রাশিয়া এবং ইউক্রেন দুপক্ষকেই নয়া দিল্লির তরফে বোঝানো হয়েছিল, সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে কূটনীতি এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে। বন্ধু পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাছাড়াও এর মাঝে ইউক্রেন সফরে গিয়ে সে দেশের প্রেসিডেন্ট সহ অন্যান্য মন্ত্রী পারিষদদের বিদেশ মন্ত্রী এস জয় শঙ্কর বলে এসেছিলেন, যুদ্ধ থামাতে সবরকম সাহায্য করবে ভারত।