প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: লাভ জিহাদের শিকার হলেন কোচবিহারের (Cooch Behar) হিন্দু প্রেমিকা। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে (Extra Marital Affair Case) টানাপোড়েনের জেরে ‘প্রেমিকার’ গায়ে আগুন লাগাতে এসে ধস্তাধস্তি করতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে শনিবার সকালেই মৃত্যু হয়েছিল প্রেমিক তৃণমূল নেতা হামিদুল হকের। কিন্ত তখনও হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলেন প্রেমিকা ঝিলিক বর্মন। কিন্তু চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা গেল বৃথা, আজ সোমবার হাসপাতালেই মৃত্যু হল ঝিলিক বর্মনের (Jhilik Barman Death)।
পরকীয়ায় টানাপোড়েনের জেরে মৃত্যু
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার দুপুরে ৪৪ বছরের প্রেমিক হামিদুল হক পেট্রোল নিয়ে কোচবিহারের হাজরাপাড়ায় প্রেমিকা ঝিলিক বর্মনের ভাড়া বাড়িতে যান। অভিযোগ, সেখানে ঝিলিকের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। আর সেই সময় দু’জনের মধ্যে শুরু হয় চরম ধস্তাধস্তি। তখনই হামিদুলের শরীরেও আগুন ধরে যায়। এরপর স্থানীয়দের তৎপরতায় গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় দু’জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গত শনিবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় হামিদুলের। তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু তখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলেন প্রেমিকা ঝিলিক বর্মন। কিন্তু আজ সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যু হল ঝিলিকের
হাসপাতাল সূত্রে খবর, প্রথম থেকেই দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। বার্ন ইউনিটে তাঁদের চিকিৎসা চলছিল। প্রথমে ঝিলিকের শারীরিক অবস্থা তুলনামূলক ভাবে বেশি গুরুতর ছিল তবে পরে হামিদুলের অবস্থারও অবনতি হয়। শেষ পর্যন্ত গত শনিবার হামিদুলের মৃত্যু হয়। এদিকে ঝিলিককে বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও তিনিও আজ হাসপাতালে মারা গিয়েছেন। ঘটনায় কোচবিহার জেলা পুলিশের এক আধিকারিক বলেন, “বিগত দু’বছরের বেশি সময় ধরে হরিণচওড়া এলাকার যুবক তথা তৃণমূল নেতা হামিদুল হকের সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল ঝিলিক বর্মনের। কোচবিহার শহরের হাজরাপাড়া এলাকায় মা ও ছেলেকে নিয়ে ভাড়া থাকেন ঝিলিক বর্মন। ওই বাড়িতে প্রায়শই আসতেন হামিদুল। স্বামীর সঙ্গে ঝিলিকের ডিভোর্সের মামলা চলছিল।
আরও পড়ুন: নাম ওঠেনি ভোটার তালিকায়! বাংলার বাড়ির ৬০ হাজার টাকা ফেরতের নির্দেশ বীরভূমে
ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা
সূত্রের খবর, সম্প্রতি ঝিলিক নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে হামিদুলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে। তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ঝামেলা চলছিল দুজনের মধ্যে। শেষে সম্পর্কের টানাপোড়েনের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা সমাজে অশান্তি তৈরি করে। এদিকে সমাজে এ ধরনের অপরাধ যাতে আর না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে ছিলেন যে , ল্যান্ড জিহাদ, লাভজিহাদ, আর বলপূর্বক ধর্মপরিবর্তন করার বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই কঠোর আইন এই সরকার আনবে। এখন দেখার পরবর্তী পদক্ষেপ হিসাবে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়।