প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বহু অপেক্ষার অবসান, অবশেষে পুরুলিয়ার (Purulia) ছড়রায় হতে চলে পরিকল্পিত বিমানবন্দর। যেই এয়ারস্ট্রিপ (Chharra Airfield) দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্যবহার করা হত সেটি পুনরায় নয়া রাজ্য সরকার গঠন হওয়ার পর নতুন রূপে রাজ্যবাসীর কাছে ফুটে উঠতে চলেছে। জানা গিয়েছে চলতি মাসেই এই বিমানবন্দর (Chharra Airport) নিয়ে মউ সই করতে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন বিমানমন্ত্রী কিঞ্জারাপু রামমোহন নাইডু। আর সেই স্বাক্ষর পর্বে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। খুশির আমেজ পশ্চিমে।
পুরুলিয়ার ছড়রায় হবে বিমানবন্দর
ক্ষমতার রদবদল হতেই রাজ্যের আমূল পরিবর্তনের জন্য একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছে নয়া বিজেপি সরকার। শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য পর্যটন এবং পরিবহন ব্যবস্থাতেও নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। কিছুদিন আগেই রাজ্য বাজেটে ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই পুরুলিয়ার ছড়রায় বিমানবন্দরের জন্য ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই পুরুলিয়া শহরের উপকণ্ঠে শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে পরিত্যক্ত ছড়রা এয়ারস্ট্রিপের মানচিত্র-সহ পুরুলিয়া জেলা প্রশাসনকে নিয়ে সম্প্রতি পরিদর্শন করেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো। এবার পুরুলিয়ার ছররায় পুরোদস্তুর সেই বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে।
কবে মউ স্বাক্ষর করা হবে?
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর পুরুলিয়ার ছররায় বিমানবন্দর নিয়ে মউ সই করতে পশ্চিমবঙ্গে আসছেন বিমানমন্ত্রী কিঞ্জারাপু রামমোহন নাইডু। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নবান্নে ওই মউ স্বাক্ষরিত হবে। সেদিন রামমোহন নাইডুর সঙ্গে থাকবেন বিমান মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী মুরলিধর মোহোল এবং কেন্দ্রের অধীনস্থ এয়ারপোর্ট অথিরিটি বা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বিপিন কুমারেরও। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, একই দিনে রাজ্যের আরও তিনটি বিমানবন্দরের মউ সই হওয়ার কথা। সেগুলি হল বায়ুসেনা পরিচালিত কলাইকুন্ডা, হাসিমারা ও বালুরঘাট বিমানবন্দর।
জানা গিয়েছে, এই চারটি বিমানবন্দরই চলবে কেন্দ্রের রিজিওনাল কানেক্টিভিটি স্কিমে। যে এয়ারলাইন্স এই চার বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট চালাবে, তাদের যাতে কোনও লোকসানের মুখে পড়তে না হয়, তার জন্য তাদের ভর্তুকি দেবে কেন্দ্র। তবে মালদহে বিমানবন্দর তৈরির পরিকাঠামো থাকলেও আপাতত সেখানে মউ স্বাক্ষর হচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে।
আরও পড়ুন: উর্দি পরে ‘ইনশাল্লাহ’, বিতর্ক! খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার IPS বুশরা বানোর বদলি
প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর জন্য পুরুলিয়া শহর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে এই ছররায় দু’টি রানওয়ে বানানো হয়েছিল। সেখানে বিমানবাহিনীর ৪৪৪তম বম্বার্ডমেন্ট গ্রুপের ঘাঁটি ছিল। বি-২৪ যুদ্ধবিমান ওঠানামা করত সেখান থেকে। পরে তার অস্তিত্ব বিপন্ন হয়েছিল। বাম এবং তৃণমূল আমলে সেখানে পুরোদস্তুর বিমানবন্দর তৈরির প্রচেষ্টা হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। অবশেষে বিজেপির আমলে সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। প্রাথমিক ভাবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়ভারও রাজ্যের উপরে এসে পড়বে। আর কেন্দ্র সেখানে বিমানবন্দর তৈরি করবে। ।