সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে উপনির্বাচন। সিপিআইএম, কংগ্রেস, দুই তৃণমূলের পাশাপাশি আজ বিজেপিও নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে এই দুই কেন্দ্রে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাট শিবিরের তরফ থেকে নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা হয়েছে সঞ্চিতা দে প্রধানকে। অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরের তরফ থেকে নন্দীগ্রামে ভোট লড়বেন এতে সামিউল হক। এছাড়া আজ বিজেপির তরফ থেকে নিহত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এবার চাপা ক্ষোভ প্রকাশ করলেন নন্দীগ্রামের ঘরের মেয়ে অষ্টমী গিরি (Ashtami Giri)।
প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে অসন্তুষ্ট অষ্টমী?
ঋতব্রত তৃণমূল কিংবা বিজেপি, নন্দীগ্রামের আসনে এবার তাঁরা বহিরাগতদেরই আশ্রয় দিয়েছেন বলে ফেসবুক পোস্টে ইঙ্গিত দিলেন অষ্টমী গিরি। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, মমতা প্রার্থী ঘোষণা করার আগেই সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, দল এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ না করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রস্তাব দিলে তিনি তা গ্রহণ করতে রাজি। তাঁর কথায়, “প্রস্তুতি বলতে সেটা দল ঠিক করছে। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন। দল আজ পর্যন্ত আমাকে যা যা প্রস্তাব দিয়েছে দলের কথা ভেবেই আমি সব করি। প্রার্থী হব কিনা সেটা দল ঠিক করবে।”
তবে অষ্টমীর এই বক্তব্য সামনে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কালীঘাট তৃণমূলের তরফ থেকে নন্দীগ্রামে প্রার্থী হিসেবে সঞ্চিতা দে প্রধানের নাম ঘোষণা করা হয়। যদিও সঞ্চিতা নন্দীগ্রামের বাসিন্দা। তবে প্রচারের আলোতে তেমন দেখা যায়নি তাঁকে। সেই কারণেই হয়ত আক্ষেপ প্রকাশ করে অষ্টমী সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “নন্দীগ্রামকে নিয়ে এত রাজনীতি, নন্দীগ্রামকে সামনে রেখে এত বড় বড় স্বপ্ন, কিন্তু নন্দীগ্রামের নিজের ছেলেমেয়েদের জন্য সেই সুযোগটা কোথায়?” এছাড়া ঋতব্রত শিবিরের তরফ থেকে ঘোষিত প্রার্থী এতে সামিউল হককে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আর প্রার্থী খুঁজে পেলেন না? শেষ পর্যন্ত পার্ক সার্কাসের বাসিন্দাকে এনে বসাতে হল?”
আরও পড়ুন: ২০০০ টাকা পর্যন্ত UPI লেনদেনে কাটবে না চার্জ, জানিয়ে দিল সরকার
অন্যদিকে আজ বিজেপির তরফ থেকে প্রার্থী করা হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নিহত আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানী রথকে। তবে নন্দীগ্রামের অন্যতম লড়াকু বিজেপি নেতা প্রলয় পালকে প্রার্থী না করায় অষ্টমী সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “নন্দীগ্রামকে সামনে রেখে অনেকেই রাজনীতিতে বড় জায়গায় পৌঁছেছেন। অথচ এই মাটিতে বছরের পর বছর যাঁরা সংগঠন তৈরি করেছেন, লড়াই করেছেন, তাঁদের রাজনৈতিক মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। ছবির এই মানুষটি বিজেপির হয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। সংগঠন গড়েছেন। ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে দাঁড়ানোর সময়ও দলীয় আদর্শের প্রতি আস্থা রেখে নিজের অবস্থানে অটল ছিলেন, এমন কথাও শোনা যায়। আজ নন্দীগ্রামে প্রার্থী হচ্ছেন অন্য এলাকার একজন, অথচ এই মাটির পুরনো লড়াকু কর্মিটি সুযোগ পেলেন না। প্রশ্নটা দলকে ছোট করার নয়, প্রশ্নটা মাটির কর্মীদের প্রাপ্য সম্মান এবং সুযোগ দেওয়ার। আমি তৃণমূলের সমর্থক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আমার শ্রদ্ধা অটুট। তবুও অন্য দলের একজন পুরনো কর্মীর জন্য এই কথাটা বলতে দ্বিধা নেই, রাজনীতিতে আনুগত্যের মূল্যায়ন হওয়া দরকার। শুধু নির্বাচনের সময় নয়, সব সময়।”