সহেলি মিত্র, কলকাতা: আপনিও কি অফবিট জায়গা ঘুরতে পছন্দ করেন? ঘুরতে গিয়ে বিশেষ করে ফুল দেখতে পছন্দ করেন? তাহলে আজ আপনাদের এমন এক জায়গার সন্ধান দেব যেখানে গেলে আপনার মন প্রশান্তিতে ভোরে যাবে। সেইসঙ্গে চোখের শান্তি কাকে বলে সেটাও টের পাবেন। আপনাকে এমন এক ফুলে ভরা ভ্যালির সন্ধান দেব যে জায়গাটি সম্পর্কে জানলে আপনি হয়তো তৎক্ষণাৎ সেখানে যাওয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগে যাবেন। আজ যে জায়গাটি সম্পর্কে আলোচনা হবে তার নাম হল ‘কাস পাথর।’ (Kas Pathar)
ঘুরে আসুন কাস পাথর
ফুলের ভ্যালি মানেই আর বেতাব বা বাংলার ক্ষীরাই নয়। দেশে রয়েছে এমন এক জায়গা যেখানে গেলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন। সঙ্গে আপনার চোখের থেরাপিও হয়ে যাবে। আজ কথা হচ্ছে মহারাষ্ট্রের কাস পাথর নিয়ে যেখানে প্রতি বছর বর্ষায় ৮৫০ টিরও বেশি প্রজাতির ফুল ফোটে। গোলাপি, লাল, হলুদ রঙের নানা ফুল জায়গাটিকে নববধূর সাজে সাজিয়ে তোলে। এখানে এলে ফুলপ্রেমীদের মনে হবে যেন প্রকৃতি তার রঙিন ছটা ছড়িয়েছে। হাজারো জানা অজানা ফুলের সন্ধান এখানে পাবেন আপনি।
UNESCO ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের তকমা পেয়েছে জায়গাটি। এখানে সারা বছর বিভিন্ন ধরনের ফুল দেখা যায়। ফুলের গালিচার বিভিন্ন রঙ এবং সাতারা জেলার কাস পাথরে জন্মানো ছোট ছোট ফুলের জন্য কাস মালভূমি বিখ্যাত হয়ে উঠেছে। ২০১২ সালের জুন মাসে ইউনেস্কো কাস মালভূমিকে একটি জীববৈচিত্র্য বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করে।
আরও পড়ুনঃ নদীর সৌন্দর্য থেকে ঐতিহাসিক ফোর্ট, কলকাতার ২ ঘন্টা দূরেই রয়েছে এক সুন্দর জায়গা
একটি বিশেষ সাতারা ফুল, অ্যাপোনোগেটন সাটারেনসিস বা ওয়াইতুরা ফুল, যা এখন বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, শুধুমাত্র মহারাষ্ট্রের কাস মালভূমিতেই পাওয়া যায়। কাস মালভূমিতে ১৭৫ প্রজাতির বুনো ফুল রয়েছে। মহারাষ্ট্রের কাস মালভূমি বহু পাখি, প্রজাপতি, সরীসৃপ এবং বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল। কাস মালভূমি ভ্রমণের সেরা সময় হলো বর্ষা শেষ হওয়ার ঠিক পরে, অর্থাৎ সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাস। প্রতি আট বছরে একবার, বেগুনি, নীল এবং গোলাপী রঙের ছটায় কারভি ফুলে পুরো মহারাষ্ট্রের কাস মালভূমি ছেয়ে যায়।
কীভাবে যাবেন?
পুনে থেকে জায়গাটির দূরত্ব ১২০ থেকে ১৩০ কিমি মতো। অর্থাৎ সড়কপথে এই জায়গায় পৌঁছাতে আপনার ৩ থেকে ৪ ঘন্টা সময় লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনি কলকাতা থেকে পুনে ট্রেনে বা বিমানে চলে যান। এরপর সেখান থেকে একটি প্রাইভেট গাড়ি বুক করে পৌঁছে যেতে পারবেন কাস পাথর।