সহেলি মিত্র, কলকাতা: EPFO- র বেতন সীমা বৃদ্ধি করল কেন্দ্রীয় সরকার। টাকার অঙ্ক ১৫, ০০০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াল ২৫, ০০০ টাকা। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন।কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেছেন, “বর্তমান পিএফ (প্রভিডেন্ট ফান্ড) নিয়ম অনুযায়ী, বেতনের সীমা (Salary Limit) ছিল ১৫,০০০ টাকা। এই সীমাটি ২০১৪ সালে নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে তা সংশোধন করা হয়। এখন, আমরা এটিকে প্রতি মাসে ২৫,০০০ টাকা করেছি।”
EPFO -তে বেতনসীমা বৃদ্ধি করল কেন্দ্রীয় সরকার
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, “পিএফ কভারেজর নতুন সীমা হবে প্রতি মাসে ২৫,০০০ টাকা। এর ফলে প্রায় ৫১ লক্ষ কর্মচারী উপকৃত হবেন, যাঁদের বেতন ১৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকার মধ্যে। তাঁরা এখন নতুন পিএফ নিয়মের আওতায় আসবেন। এর জন্য ভারত সরকারের আনুমানিক ব্যয় প্রতি বছর প্রায় ১১,৩৩৯ কোটি টাকা হবে।”
তিনি জানান, ‘এই দাবিটি দীর্ঘদিন ধরে করা হচ্ছিল এবং অবশেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকার ১৬ই সেপ্টেম্বর এটি অনুমোদন করেছে। বিভিন্ন মন্ত্রকের মধ্যে প্রস্তাবটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় এবং ব্যয় অর্থ কমিটি ২০২৬ সালের ১৬ই জুনের বৈঠকে এটি সুপারিশ করে। পাঁচ বছরে এর আনুমানিক ব্যয় প্রায় ৫৬,৬৯৬ কোটি টাকা।’
আরও পড়ুনঃ এদের কাটতে হবে না ট্রেনের টিকিট! ১ নভেম্বর থেকে আজীবন বিনামূল্যে ভ্রমণ, ঘোষণা রেলের
কী কী সুবিধা পাবেন কর্মচারীরা?
এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ কর্মচারী একটি সুসংগঠিত সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সুবিধা পাবেন। বেতনসীমা বৃদ্ধির ফলে কর্মচারীরা তিনটি প্রধান সুবিধা পাবেন। প্রথমত, তাঁরা এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড (EPF)-এর অধীনে নিয়মিত সঞ্চয়ের সুবিধা পাবেন। দ্বিতীয়ত, তাঁরা এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম (EPS)-এর মাধ্যমে অবসর-পরবর্তী পেনশন সুরক্ষা পাবেন। তৃতীয়ত, এমপ্লয়িজ ডিপোজিট-লিঙ্কড ইন্স্যুরেন্স স্কিম (EDLI)-এর অধীনে বীমা সুরক্ষাও পাওয়া যাবে। এছাড়াও, পেনশনযোগ্য বেতন এবং বিধিবদ্ধ অবদান ব্যবস্থা বর্তমান বেতন স্তরের সাথে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
▪️#Cabinet approves enhancement of EPFO wage ceiling from Rs.15,000 to Rs.25,000 per month.
▪️The decision is expected to bring more than 51 lakh additional employees within the ambit of mandatory EPFO coverage.
▪️The annual Government outgo is estimated at about Rs.11,339… pic.twitter.com/Tx7jR0O2n7
— PIB India (@PIB_India) September 16, 2026
সরকারের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থান শুধু মজুরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, বরং এর সাথে নিশ্চিত ও স্থানান্তরযোগ্য সামাজিক সুরক্ষাও থাকা প্রয়োজন। নতুন ব্যবস্থাটি এই নীতিকে আরও শক্তিশালী করে। এই সিদ্ধান্তটি শুধু কর্মচারীদের জন্যই নয়, নিয়োগকর্তাদের জন্যও উপকারী বলে মনে করা হচ্ছে। ব্যাপক সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা কর্মচারীদের মনোবল বাড়াবে, প্রতিভাবান কর্মীদের ধরে রাখতে সাহায্য করবে এবং আরও স্থিতিশীল ও ভবিষ্যৎ-উপযোগী কর্মী বাহিনী তৈরি করবে।উল্লেখ্য, বর্তমানে, ইপিএফও বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭৯.৮ মিলিয়ন অবদানকারী সদস্য এবং ৭৬৮,০০০-এর বেশি প্রতিষ্ঠান ইপিএফও-এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। এমপ্লয়িজ পেনশন স্কিম (ইপিএস) থেকে প্রায় ৮.২ মিলিয়ন পেনশনভোগী উপকৃত হন।