সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: তৃণমূলের (Trinamool Congress) প্রতীক কার, এ নিয়ে কয়েক দিন ধরেই চলছিল দড়ি টানাটানি। প্রথম থেকেই ঋতব্রতরা নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করে আসছিল। অন্যদিকে মমতার নিজের হাতে তৈরি প্রতীক, এই দাবি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনকে চিঠি পাঠিয়েছিল কালীঘাট শিবির। সেই সূত্রে দুই তৃণমূলকেই তলব করে কমিশন। সেদিন কোনও সিদ্ধান্ত না জানানো হলেও আপাতত তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ করে দিল ইসিআই। এমনকি দুই শিবিরকেই কমিশনের তরফ থেকে বেছে নিতে বলা হয়েছে নতুন নাম।
তৃণমূলের প্রতীক ফ্রিজ করল কমিশন
আসলে এবারের নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূলের বিধানসভা এবং লোকসভা, সবকিছুই ভেঙে চুরমার। লোকসভার ২০ জন সাংসদ তো এমনিতেই এনডিএ শিবিরে যোগদান করেছেন। অন্যদিকে বিধানসভার ৬০ জনের বেশি বিধায়কের সমর্থনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৈরি হয় নব্য তৃণমূল। এমনকি তারাই নিজেদের আসল বলে দাবি করে। অন্যদিকে গুটিকয়েক বিধায়ক এবং সাংসদ নিয়ে একেবারে একঘরে হয়ে পড়েন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে যেহেতু আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে উপনির্বাচন, তাই তার আগে প্রতীক নিয়ে দুই তৃণমূলের মধ্যে তৈরি হয় দড়ি টানাটানি।
ইতিমধ্যেই এই উপনির্বাচনে দুই তৃণমূলের তরফ থেকেই প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এক প্রতীকে দুই শিবির লড়বে, এমনটা তো হতে পারে না। সেই কারণে দুই তৃণমূলের প্রতিনিধিদের দিল্লিতে তলব করেন নির্বাচন কমিশন। ঋতব্রতপন্থীদের তরফ থেকে উপস্থিত হন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে, আখরুজ্জামান সহ অন্যান্যরা। অন্যদিকে কালীঘাট তৃণমূলের তরফ থেকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে সেদিন কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি ইসিআই। অবশেষে উপনির্বাচনের আগেই ওই জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করা হল কমিশনের তরফ থেকে।
আরও পড়ুন: বিশ্বকর্মা পুজোয় কর্মক্ষেত্রে উন্নতি, আর্থিক যোগ ৭ রাশির! আজকের রাশিফল, ১৮ সেপ্টেম্বর
এমনকি ঋতব্রত এবং কালীঘাট, দুই শিবিরকেই স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, উপনির্বাচনের আগেই তাদের নতুন করে নাম এবং প্রতীক বাছতে হবে, এবং সেই প্রতীকেই তারা লড়তে পারবে। তবে দীর্ঘ ২৮ বছর আগে যে তৃণমূলের প্রতীক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে হাতে তৈরি করেছিলেন, এখন তাঁকে নতুন করে যে আবার সবকিছু শুরু করতে হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। যদিও এখনও এ বিষয়ে কোনও শিবিরের তরফ থেকে প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।