খনিজ থেকে ৫৬৭ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের, ৪ মাসেই কামাল

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: তৃণমূলের আমলে কয়লা পাচারের টাকা ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে ঘুরপথে বিদেশে যেতে বলেই অভিযোগ। এমনকি কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। তবে রাজ্যে পালাবদল হতেই সেই কয়লা খাতেই বাজিমাত করছে শুভেন্দুর সরকার। রিপোর্ট বলছে, এ বছর ৫৬৭.৮২ কোটি টাকার রাজস্ব সংগ্রহ হয়েছে শুধুমাত্র খনিজ থেকেই (Mineral Revenue)। এমনকি এই পরিসংখ্যান গত বছরের এই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩৩% বেশি।

খনিজ রাজস্বে রেকর্ড পশ্চিমবঙ্গ সরকারের

জানা গিয়েছে, গত বছর ১৬ এপ্রিল থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে এই খাতে রাজস্ব সংগ্রহের পরিমাণ ছিল মাত্র ৪২৮.২০ কোটি টাকা। তবে এ বছর বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪৯.৬২ কোটি টাকা এবং তা দাঁড়িয়েছে ৫৬৭.৮২ কোটি টাকায়। আসলে বিজেপি সরকার প্রথম চার মাসেই বীরভূম রাজ্যে সর্বোচ্চ খনিজ রাজস্ব আদায় করেছে বলে দাবি করছে এক রিপোর্ট। প্রশাসনিক সূত্র অনুযায়ী, বীরভূম শুধুমাত্র বালি, পাথর এবং কয়লা থেকেই খনিজ রাজস্ব বাবদ ২৩৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে যা রাজ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এদিকে এই সময়কালের মধ্যে ৭০.৩৯ কোটি টাকা সংগ্রহ করে ঝাড়গ্রাম রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। তারপর ৫৬.১২ কোটি টাকা সংগ্রহ করে তৃতীয় স্থানে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান। বাঁকুড়া থেকে রাজ্যের কোষাগারে গিয়েছে মোট ৫৩.০৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে পশ্চিম বর্ধমান থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৪৮.৫৯ কোটি টাকা। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিগত বছরগুলিতে রাজস্বের পরিমাণ কম হওয়ার কারণ হিসেবে আগের সরকারের দুর্নীতি এবং তোষণকেই দায়ী করেছেন।

আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা যোজনা তো ছিলই, এবার আবাস নিয়েও মহিলাদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, গত ১৫ বছরে শুধুমাত্র বীরভূম জেলা প্রতি বছর প্রায় ১০০০ কোটি টাকা করে রাজস্ব হারিয়েছে, যার মোট পরিমাণ প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। এমনকি তিনি এও জানান যে, এই টাকা স্কুল ও হাসপাতাল নির্মাণ বা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ব্যবহার করা যেত। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেছিলেন যে, বীরভূমের পাথর শিল্প থেকে আগের সরকার এক বছরে মাত্র ৬০ কোটি টাকা রাজস্ব সংগ্রহ করেছিল। অথচ ৯ মে তাঁর শপথগ্রহণের এক মাসের মধ্যেই মোট ৮৩ কোটি টাকা সংগ্রহ হয়েছে।

Leave a Comment