সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ প্রকৃতির তাণ্ডব রূপ দেখার জন্য তৈরি থাকুন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই বছর এল নিনো (El Nino) আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হতে পারে এবং এর প্রভাব ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (WMO) মতে, ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এল নিনো অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে একদম প্রায় ১০০ শতাংশ। এল নিনোর প্রভাবে বড় সংকট ধেয়ে আসছে ভারতের দিকে বলে খবর। গত ১৭ বছরে এমন ঘটনা কেউ দেখেছেন কিনা সন্দেহ!
১৭ বছর পর ভারতে বিরাট এল নিনোর প্রভাব!
জানলে চমকে উঠবেন, এল নিনোর প্রভাবে ভারতে ফের মুদ্রাস্ফীতির (Inflation) আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কম বৃষ্টিপাতের কারণে ফসলের ফলন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, পাশাপাশি খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকিও রয়েছে। ইতিমধ্যেই দেশে বর্ষার ঘাটতি স্পষ্ট। আইএমডি-র তথ্য অনুযায়ী, জুন-সেপ্টেম্বর বর্ষা মরসুমে এখনও পর্যন্ত স্বাভাবিকের তুলনায় ১৫% কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই ঘাটতি বজায় থাকলে ২০০৯ সালের পর অর্থাৎ ১৭ বছর এটাই হতে পারে ভারতের সবচেয়ে দুর্বল বর্ষা। ২০০৯ সালে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৮% কম বৃষ্টি হয়েছিল। মে মাসে আইএমডি এই মরসুমে ১০% বৃষ্টিপাত ঘাটতির পূর্বাভাস দিয়েছিল। ফলে এল নিনোর প্রভাব কৃষি ও খাদ্যের দামের উপর নতুন করে চাপ তৈরি করতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় তৈরি হচ্ছে শীঘ্রই?
সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে একটি ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় তৈরির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান সংস্থা গ্লোবাল ওয়েদার ক্লাইমেট অ্যানালিটিক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিশ্চিয়ান ওয়ার্নার। তাঁর মতে, এই ঝড় পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে বৃষ্টির ঘাটতি কিছুটা মেটাতে পারে, তবে দেশের সামগ্রিক বর্ষার ছবিতে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তাঁর অনুমান, মৌসুম শেষে বৃষ্টির ঘাটতি ১৩-১৬% হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ উত্তর আন্দামান সাগরে তৈরি হচ্ছে নিম্নচাপ! লন্ডভন্ড হতে পারে দক্ষিণবঙ্গ, আজকের আবহাওয়া
ভারতের কৃষি বর্ষার বৃষ্টির উপর অনেকটাই নির্ভরশীল। তাই দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির ঘাটতি চলতি ও পরবর্তী ফসলের বপন এবং উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতির চাপও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৫.৯৫%-এ পৌঁছেছে, যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ। ধান, আখ ও ভুট্টার বপনও গত মরসুমের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। এদিকে কোয়ান্টইকোর অর্থনীতিবিদ যুবিকা সিংঘালের মতে, স্বাভাবিকের তুলনায় প্রতি ১% বৃষ্টির ঘাটতিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি সাধারণত প্রায় ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়তে পারে। পরিস্থিতি সামলাতে সরকার শুল্কমুক্ত চিনি আমদানির অনুমতি দিয়েছে এবং কিছু রাজ্যে ভর্তুকি মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি করছে। এদিকে, যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির ‘ক্রুশিয়াল’ প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক রাউলস্টনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৌসুম শেষে স্বাভাবিকের তুলনায় ১০-২০% কম বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ৬৮%।